শনিবার, ১১ Jul ২০২৬, ০৮:১৮ অপরাহ্ন

পাত্রীর বায়োডাটা নিয়ে ৭৫ লাখ টাকা প্রতারণা, ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : একেই বলে ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট। ঘটকের কাছ থেকে পাত্রীর ছবি ও বায়োডাটা নেন তিনি। এরপর পাত্রীর কাছে ফোন করে নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট বা সহকারী সচিব পরিচয় দেন। তিনি সুন্দর মনের একজন পাত্রীকে খুঁজছেন। এরপর পাত্রীর মায়ের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। বিয়ের আগেই হবু শাশুড়ি বলে সম্বোধন করেন। এক পর্যায়ে বিদেশে পিএইচডি করার কথা বলেন। হবু জামাই পিএইচডি করবে এই ভেবে ১০-১৫ লাখ টাকা তুলে দেন পাত্রীর মা। টাকা পেয়েই তিনি চম্পট। আত্মগোপন করেন। সন্ধান করেন আরেক পাত্রীর। এবার আবার বিয়ে বিয়ে খেলা করে আরেক পাত্রীর সাথে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করেন। এভাবে ৫ জন পাত্রীর কাছ থেকে ৭৫ লাখ টাকা প্রতারণা করেছেন এক ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট।

রাজধানীর উত্তরায় ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় প্রদানকারী এই প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতারকৃতের নাম গোলাম মোস্তফা (৩৮)। রোববার মধ্যরাতে সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম ইউনিটের একটি বিশেষ দল উত্তরা পশ্চিম থানা উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন বলেন, ‘প্রতারক গোলাম মোস্তফা নিজেকে ২৪ তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা আবার কখনও ম্যাজিস্ট্রেট আবার কখনও সচিবালয়ে কর্মরত বলে পরিচয় দিতেন। এই পরিচয় দিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পাঁচজনের কাছ থেকে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরের কিছু অসাধু ঘটকের কাছ থেকে অবিবাহিত মেয়েদের বায়োডাটা টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করে তাদের সাথে ফোনে যোগাযোগ শুরু করে। তাদের পরিবারের সদস্য বিশেষত পাত্রীর মায়ের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে এবং বিশ্বস্ততা অর্জন করে। এরপর বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাত যেমন-পিএইচডি করতে বিদেশ যাওয়া, দুদককে ঘুষ দেয়া, বদলি বাতিলকরণ করাসহ নানা অজুহাতে বিবাহপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা ধার নিতেন। পরবর্তীতে ধারকৃত টাকা ফেরত না দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতেন। তার মূল টার্গেট ছিল বিত্তবান পরিবারের অবিবাহিত ও চাকরিজীবী মেয়ে।’

সিআইডি জানায়, গত ১১ ফেব্রুয়ারি প্রতারণার শিকার হয়ে বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত এক নারী কর্মকর্তা বাদী হয়ে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানায় গোলাম মোস্তফার নামে একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। ওই মামলা সিআইডি তদন্ত করে সিরিয়াস ক্রাইম টিমের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজীব ফরহানের তত্ত্বাবধানে সহকারী পুলিশ সুপার সুমন রেজার নেতৃত্বে একটি দল রোববার মধ্যরাতে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের একটি অ্যাপার্টমেন্ট বাসায় অভিযান চালিয়ে গোলাম মোস্তফাকে গ্রেফতার করে।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com