শনিবার, ১১ Jul ২০২৬, ০১:৩৯ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : পাবনার দিলালপুরে ভাড়া বাসায় একই পরিবারের তিনজন খুন হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এর রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হত্যকাণ্ডে জড়িত স্থানীয় মসজিদের ইমাম তানভীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) দুপুরে পাবনা পুলিশ লাইন মিলনায়তনে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, টাকা ও সোনার অলঙ্কারের লোভে নিঃসন্তান দম্পতি ও তাদের পালিত মেয়েকে হত্যা করেছেন তানভীর।
গ্রেপ্তারকৃত তানভীর হোসেনের বাড়ি নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার হরিপুর গ্রামে। তিনি নিহত আব্দুল জব্বারের পালিত ছেলে।
পুলিশ সুপার জানান, অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার ও তার স্ত্রী ছুম্মা খাতুন ছিলেন নিঃসন্তান। শিশু সানজিদাকে দত্তক নিয়ে লালন-পালন করছিলেন তারা। দেড় বছর আগে বাড়ির পাশের ফায়ার সার্ভিস মসজিদের ইমাম তানভীরের ব্যবহারে সন্তুষ্ট হয়ে তাকেও সন্তান হিসেবে গ্রহণ করেন আব্দুল জব্বার ও তার স্ত্রী। তানভীরও তাদেরকে বাবা-মা হিসেবে সম্বোধন করতেন। ব্যাংক ও পোস্ট অফিসে টাকা লেনদেনেও তানভীরকে সঙ্গে নিয়ে যেতেন আব্দুল জব্বার।
আব্দুল জব্বারের টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কারের দিকে দৃষ্টি পড়ে তানভীরের। নিঃসন্তান দম্পতিকে হত্যা করে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটপাটের পরিকল্পনা করতে থাকেন তানভীর। গত ২৯ মে ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান তিনি। ছুটি শেষ হওয়ার আগেই ৩১ মে পাবনায় ফিরে আসেন তানভীর। ওই দিন রাতে আব্দুল জব্বারের বাড়িতে অবস্থান নেন তানভীর। রাত ২টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় আব্দুল জব্বার, তার স্ত্রী ছুম্মা খাতুন ও মেয়ে সানজিদাকে (১২) কুপিয়ে ও কাঠ দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন তানভীর। পরে নগদ ২ লাখ টাকা, ১ লাখ ভারতীয় রুপি ও সোনার গয়না নিয়ে পালিয়ে যান তিনি। পরদিন দুপুরে ওই বাড়ি থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দল। প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে শনিবার রাতে নওগাঁর নিজ বাড়ি থেকে তানভীরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নগরকন্ঠ.কম /এআর