শনিবার, ১১ Jul ২০২৬, ০৭:১১ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : ঢাকার ধামরাইয়ে একটি মসজিদ সংলগ্ন গাছ থেকে কলা চুরির অপবাদে মসজিদের ভিতরে থুতু চাটানো ও বিবস্ত্র করে বিচারের অপমান সইতে না পেরে স্ট্রোকে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় গত শনিবার (১৩ জুন) ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়। তবে দুদিনেও অভিযুক্তদের কাউকে আটক করতে সক্ষম হয়নি পুলিশ।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন।
এর আগে গত শুক্রবার (১২ জুন) সকালে উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতকোড়া জামে মসিজদের অভ্যন্তরে ওই বৃদ্ধকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। অপমান সইতে না পেরে ওই দিন রাতেই স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান পাহালী পরামানিক (৬০) নামে ওই বৃদ্ধ।
পাহালী পরামানিক ধামরাইয়ের গাংগুটিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতকোড়া গ্রামের মৃত আজগর পরমানিকের ছেলে।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, গত বৃহস্পতিবার পাহালী পারামানিকের ছেলে ওমর তার বাবার রোপন করা গাছ থেকে কলা কাটেন। জানতে পেরে মসজিদ কমিটির সদস্য আবুল হোসেন, জিন্নাত হোসেন, মনোয়ার হোসেন ও মজিবর রহমানসহ উৎসুক মুসল্লিরা এঘটনাটি চুরি বলে অপবাদ দেয়।
পরে কলার কাঁদি মসজিদে জমা দিলেও চুরির ঘটনা আখ্যা দিয়ে অভিযুক্তরা মুসল্লিরা বৃদ্ধ পাহালি পারামানিককে মসিজদের ভিতরে বিচারের সম্মুখীন করেন। এসময় শাস্তি স্বরূপ সকলের সামনে তাকে কান ধরে উঠবস করানো, কলার কাঁদি মাথায় নিয়ে মসজিদের চারপাশে ঘোরানো, মসজিদের মেঝেতে থুতু ফেলে সেই থুতু চেটে খেতে বাধ্য করা ও বিবস্ত্র করা হয়।
এরপরও ক্ষান্ত না হয়ে আবারেও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মসজিদ কমিটির সভাপতির নিকট বিচার দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় চরম অপমানিত বোধ করেন পাহালি পারামানিক। ঘুমের মধ্যে তার স্ট্রোক হলে তাতে মৃত্যু হয় তার।
পাহালি পারামানিকের ছেলে পুলিশ সদস্য রুবেল হোসেন বলেন, ‘মসজিদের নামে ৩৬ শতাংশ জমি দান করে দিয়েছিলেন আমার বাবা। অথচ মসজিদ সংলগ্ন নিজের রোপন করা গাছের কলার কাঁদি কাটা নিয়ে বাবাকে চুরির অপবাদ নিয়ে বর্বর নির্যাতনের শিকার হতে হলো। এসব অপমানের জেরে তিনি স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করলেন। যাদের কারণে এমন ঘটনা তাদের সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এ বিষয়ে গাঙ্গুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ হাতকোড়া জামে মসিজদের সভাপতি কাদের মোল্লা বলেন, ‘কলা কাটার বিষয়ে পাহালী পরমানিক আমার কাছে এসেছিলেন। আমি তাকে বিষয়টি মীমাংসা করার কথা বলেছিলাম।’
কাওয়ালীপাড়া বাজার তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু সাইদ বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধকে অপমানিত করার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়েছি। বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত হয়েছে। থানা থেকে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’
এদিকে এ ঘটনার দিনই থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও মামলা রুজু হয়নি বলে জানা গেছে।
ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন বলেন, ‘অপমানিত হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যুর কথা শুনেছি। কিন্তু তাকে সরাসরি কেউ মারেনি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানেন। এ ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
লিখিত অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। মামলার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
নগরকন্ঠ.কম/এআর