শনিবার, ১১ Jul ২০২৬, ০৪:২২ পূর্বাহ্ন

পূর্ব রাজাবাজারে করোনা শনাক্ত ২৪ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের লকডাউন পরিস্থিতির অষ্টম দিন অতিবাহিত হয়েছে বুধবার। লকডাউনের এ সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ২৪ জন। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, তারা আগে থেকেই সংক্রমিত ছিলেন। এমন দাবি করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামও। তিনি বুধবার সকালে পূর্ব রাজাবাজারের লকডাউন পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে সন্তোষ প্রকাশ করেন। আর বিকালে পরিদর্শন শেষে ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম রেড জোনগুলোয় লকডাউন কার্যকরে নাগরিকদের প্রতি সামাজিকভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও লকডাউন কার্যকরে দায়িত্ব পালনকারীরা বলছেন, প্রথমে নানা অনিয়ম করলেও আস্তে আস্তে স্থানীয় লোকজন বুঝতে শুরু করেছেন। তারা আগের মতো অহেতুক বের হওয়ার চেষ্টা করছেন না। তাছাড়া বুধবার দিনভর বৃষ্টির কারণে এ এলাকার মানুষ ঘর থেকে বের হননি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লকডাউন শুরুর পর বুধবার পর্যন্ত এ এলাকার ১৩২ জন নমুনা দিয়েছিলেন। বুধবার সকালে পূর্ব রাজাবাজারের লকডাউন পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, মাল্টি-সেক্টরাল অ্যাপ্রোচের মাধ্যমে রেড জোনভুক্ত এলাকায় লকডাউন কার্যকর করা হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় পূর্ব রাজাবাজারে লকডাউন কার্যকর হচ্ছে।

এ সময় রাজাবাজারে কার্যকর লকডাউনে সন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। লকডাউন চলাকালে রাজাবাজারের ২৪ জনের করোনা পজিটিভ আসার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, লকডাউন সঠিক নিয়ম মেনে কার্যকর হচ্ছে। আগে থেকে কেউ করোনাভাইরাসের জীবাণু বহন করলে পরবর্তী সময়ে তিনি করোনা পজিটিভ হতেই পারেন। এর মাধ্যমে লকডাউন সঠিকভাবে পালিত হচ্ছে না-এ কথা বলা যাবে না। লকডাউন এলাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চাকরিজীবীদের বের হতে না দেয়ায় চাকরি নিয়ে তাদের শঙ্কায় থাকতে হচ্ছে-এমন প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, লকডাউনকৃত এলাকার কেউ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলে সেই প্রতিষ্ঠান যেন তাদের প্রতি অন্যায় কোনো আচরণ না করে বা চাকরি থেকে যেন অব্যাহতি না দেয়। এদিকে এদিন বিকালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম পূর্ব রাজাবাজার এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, আট দিন অতিবাহিত হতে যাচ্ছে। এলাকাটির অবস্থা সম্পর্কে ২১ দিন পর ঘোষণা করতে হবে-এটা রেড জোনে আছে, নাকি ইয়েলো কিংবা গ্রিন জোনে এসেছে। এ বিষয়ে টেকনিক্যাল কমিটি কাজ করছে।

তিনি বলেন, আমি স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং আইইডিসিআরের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে জোনিং ভাগের বিষয়ে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, চায়নার যে বিশেষজ্ঞ দলটি বাংলাদেশে এসেছে, তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে টেকনিক্যাল কমিটি আলোচনা করছে। চায়নার বিশেষজ্ঞ দল বলেছে, জোনিং করেই কন্ট্রোল করতে হবে। যেখানে সংক্রমণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, সেই সংক্রমণ এলাকাগুলোকে রেড জোন করেই এটা কন্ট্রোলে আনতে হবে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সামাজিকভাবে এগিয়ে এলে জোনিং করে লকডাউন বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com