শনিবার, ১১ Jul ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন

বাজারে যেতে চাওয়ার বায়নাই কাল হলো সাদিয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : চাচার সাথে বাজারে যেতে চেয়েছিল অবুঝ শিশু সাদিয়া (৫)। চাচা তাকে নিয়ে যেতে চাননি। চাচার কাছে আবদার ধরে বায়না শুরু করে সে। বিরক্ত হয় চাচা। এক পর্যায়ে জোরে একটি ধাক্কা নিয়ে বসে।

ধাক্কার চোটে উল্টে গিয়ে ড্রেসিং টেবিলের ওপর পড়ে সাদিয়া। মাথায় আঘাত পায়। এতে জ্ঞান হারায় সে। নড়াচড়া করছে না দেখে ভয় পেয়ে যায় চাচা নাজমুল। ভেবে নেয় মরে গেছে।

আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সে। কী করবে ভেবে পায় না। পরে মেয়েটিকে উঠিয়ে নিয়ে চলে যায় বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ে। মেয়েটিকে বিবস্ত্র করে সে। গলায় পেঁচিয়ে দেয় পাটের রশি। ঘটনা ভিন্ন খাতে নিয়ে যেতে তার এ প্রচেষ্টা। হয়েতো তখনো বেঁচেই ছিলো মেয়েটি। চিকিৎসা পেলে হয়তো এখনো পৃথিবীর আলো ছায়ায় হেসে খেলে বেড়াতে পারতো। বাজারেও যেতে পারতো চাচারই কাঁধে চড়ে। তা আর হলো না।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানায় গত রোববার (২১ জুন) ঘটে এ ঘটনা। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সাদিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেদিন রাতেই পার্শ্ববর্তী বাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয় নাজমুলকে। তার দেওয়া তথ্যমতে হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করে নাগেশ্বরী থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে নাজমুলকে চিফ জুডিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়। সেখানে সাদিয়া হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয় নাজমুল। পরে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়

নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রওশন কবির জানান, নাজমুল এ হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুন সাদিয়া নিখোঁজ হলে তাকে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও পায়নি তার পরিবার। পরে ২৩ জুন সকালে বাড়ির পাশের একটি বাঁশঝাড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সাদিয়া নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের পূর্ব রামখানা গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com