শনিবার, ১১ Jul ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : কোরবানি ঈদের এক মাসের বেশি বাকি থাকতেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। বাড়তি মুনাফার আশায় করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই চক্রটি কারসাজি করে সব ধরনের মসলাসহ বাড়তি দরে পণ্য বিক্রি করছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন ভোক্তা সাধারণ।
এ কারসাজি ঠেকাতে পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের পক্ষ থেকে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। আগামী ২ দিনের মধ্যে মাঠে নামবে এ মনিটরিং সেল। চলবে ঈদের পর আরও এক সপ্তাহ। অনিয়ম পেলেই জেল-জরিমানার সঙ্গে প্রতিষ্ঠান সিলগালাসহ কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। শুক্রবার অধিদফতর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, রাজধানীতেই ৬টি মনিটরিং টিম কাজ করবে। টিমগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মাসুম আরেফিন, উপ-পরিচালক বিকাশ চন্দ্র দাস, ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ফাহমিনা আক্তার, সহকারী পরিচালক রোজিনা সুলতানা, সহকারী পরিচালক মাগফুর রহমান, সহকারী পরিচালক মাহমুদা আক্তার ও ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবদুল জব্বার মণ্ডল। এছাড়া রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন অঞ্চলে অধিদফতরের বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রধানের নেতৃত্বে বিশেষ মনিটরিং পরিচালনা করা হবে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) বাবলু কুমার সাহা যুগান্তরকে বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতে পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে প্রতিদিন তদারকির কার্যক্রম অব্যাহত আছে। এছাড়া কোরবানির ঈদ ঘিরে পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে বিশেষ মনিটরিং সেল হচ্ছে। ঢাকা মহানগরে ৬টি টিমসহ প্রতিটি জেলায় নিয়মিত তদারকি করা হবে। অনিয়ম পেলেই কঠোরভাবে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো ভোক্তা যদি কোনো পণ্য বা সেবা ক্রয় করে প্রতারিত হন, তবে ভোক্তা হটলাইন ‘১৬১২১’ নাম্বারে অভিযোগ করার অনুরোধ করেন তিনি।
জানতে চাইলে ভোক্তার স্বার্থ নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমার ইয়ুথ বাংলাদেশ (সিওয়াইবি) নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের আগেভাগে বাজার মনিটরিংয়ের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। কোরবানির ঈদ আসার আগেই মসলাসহ সব ধরনের খাদ্য পণ্যের বাড়তি চাহিদা সৃষ্টি হয়। এ সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। তবে এবার দেশে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দাম বৃদ্ধির সুযোগ নেই। কঠোরভাবে তদারকি করা ও অনিয়ম পেলে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।
সূত্র বলছে, অন্য বছরের মতো এবার যাতে পণ্যের দাম না বাড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে। তাই মনিটরিং সেল হচ্ছে। কোনোভাবেই যাতে ভোক্তা প্রতারিত না হন। পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে দেশের বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জেও অভিযান চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও অভিযান শুরু হয়ে গেছে।
অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আবদুল জব্বার মণ্ডল যুগান্তরকে বলেন, অধিদফতরের মহাপরিচালকের নির্দেশে দৈনিকই বাজারে অভিযান চালানো হচ্ছে। ঈদ ঘিরে বিশেষভাবে মনিটরিং করা হবে। অভিযান চলবে ঈদের পরও। অভিযানে থাকবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও। অনিয়ম পেলে জেল-জরিমানার সঙ্গে প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হবে। ভেজালকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
শুক্রবার রাজধানীর একাধিক বাজারে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এদিন প্রতি কেজি তেজপাতা বিক্রি হয়েছে ১৪০ টাকা, এক মাস আগে ছিল ১২০ টাকা। ধনে গুঁড়া প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা, এক মাস আগে ছিল ১২০ টাকা। প্রতি কেজি ছোট এলাচ বিক্রি হয়েছে ৩৬৫০ থেকে ৩৮০০ টাকা, এক মাস আগে একই দরে বিক্রি হয়েছে। তবে কেজিতে ৫০ টাকা কমে লবঙ্গ ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দারুচিনি বিক্রি হয়েছে ৫০০ টাকা কেজিতে, এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪৫০ টাকা। আদা মান ভেদে ১৩০-১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
শুকনা মরিচ বিক্রি হয়েছে ৩৫০ টাকা, এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩০০-৩২০ টাকা। এছাড়া প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪০-৪৫ টাকা, রসুন ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। ভোক্তারা বলছেন, কোরবানির ঈদের আগেই যে যেভাবে পারছে বাড়তি দামে মসলা বিক্রি করছে। তারা এক মাস আগেই দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। মনিটরিং করা হলে দাম কমে আসে। কিন্তু দাম কমানোর আগে যা মুনাফা করার করে ফেলে তারা।
কারওয়ান বাজারের উপহার স্টোরের মসলা বিক্রেতা চুন্নু মিয়া যুগান্তরকে বলেন, মসলার বাজার পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। আমদানি কম হলে বাজারে সরবরাহ কম থাকে। এতে কিছুটা দাম বেড়ে যায়। তবে সামনে সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসবে।
নগরকন্ঠ.কম/এআর