শুক্রবার, ১০ Jul ২০২৬, ০৮:২২ অপরাহ্ন

কুড়িগ্রামে বন্যায় দুর্ভোগ : ৬ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি সামান্য হ্রাস পেলেও ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ৪৮ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন কোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলার চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়ীতে এখনো পানি থাকায় দুর্ভোগ কমছে না মানুষের। প্রায় দেড় লক্ষাধিক বানভাসী মানুষ চরম দুর্ভোগ নিয়ে দিন পার করছে।

গত এক সপ্তাহের অব্যাহত বন্যায় কর্মহীন হয়ে পড়া বানভাসী অনেক পরিবারের ঘরে খাবারও শেষ হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতে হচ্ছে তাদের। সরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা শুরু হলেও তা যথেষ্ঠ না হওয়ায় অনেকেই ত্রাণ বঞ্চিত হচ্ছেন।

জেলার ৯ উপজেলার ৫০ ইউনিয়নের বন্যা কবলিত এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে থাকায় বিচ্ছিন্ন রয়েছে এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে ৬০০ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসলসহ সবজি ক্ষেত।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকার পার্বতীপুর চরের মজির আলী জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে পার্বতীপুর চরের সব ঘর-বাড়ি পানিতে তলিয়ে আছে। বাড়িতে শুকনো জায়গা না থাকায় চুলা জ্বালানো সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে শুকনো খাবার খেতে হচ্ছে তাদের।

একই চরের সবিরন ও রব্বানী জানান, প্রতি বছর বন্যার আগে কিছু খাবার ঘরে মজুদ রাখতেন তারা। কিন্তু এ বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় কর্মহীন হয়ে আছেন তারা। তাই ঘরে থাকা সামান্য খাবারও শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে ধারদেনা করে একবেলা খেয়ে না খেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে দিন পার করছে।

এদিকে বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে গবাদিপশুর খাদ্যের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

পার্শ্ববতী চর গ্রাম গারুহারা বলদিয়াপাড়ার সুরুজ্জামান ও শাহাজাহান জানান, ঘর-বাড়িতে পানি উঠলেও নৌকা না থাকায় ঘরের চৌকি উঁচু করে সেখানেই বসবাস করছেন তারা। খাদ্য সংকটে ভুগলেও এখন পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারি কোনো সহায়তা পৌঁছায়নি তাদের কাছে। এর মধ‌্যে গরু-ছাগলের খাবার যোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে যাত্রাপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মাইনুদ্দিন ভোলা জানান, যাত্রাপুর ইউনিয়নের ১৫ হাজার পানিবন্দি মানুষের জন্য বুধবার চার মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। শিগগিরই তা বিতরণ করা হবে।

যাত্রাপুর ইউনিয়নের মতো একই অবস্থা ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারের অববাহিকার উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর, সদর, নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ি ও রাজারহাট উপজেলার ৫০ ইউনিয়নের আড়াই শতাধিক চরাঞ্চলেরও।

এদিকে জেলায় বন্যার পানিতে ডুবে পাঁচ শিশুসহ ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র এ তথ‌্য নিশ্চিত করেছে।

স্বাস্থ‌্য বিভাগ থেকে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যার পানিতে ডুবে সদরের হলোখানা ইউনিয়নের জাহিদ (১২) এবং মোগলবাসা ইউনিয়েনের কথা রায় (২) নামে দুজনের মৃত‌্যু হয়েছে। গত বুধবার উলিপুরের জানজায়গীর গ্রামে ১৪ মাস বয়সের মুক্তাসিন নামে এক শিশু বন্যার পানিতে ডুবে মারা যায়। এছাড়া গত তিন দিনে পানিতে ডুবে চিলমারী উপজেলার বড়াইবাড়ী গ্রামের শান্ত মিয়া (৫), নয়ারহাট ইউনিয়নের জামাল ব্যাপারী (৫৫) এবং নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া গ্রামের বেলাল হোসেন (৫) নামে এক শিশু মারা গেছে।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম জানান, জেলার বন্যা কবলিত মানুষের জন্য ৩০২ মেট্রিক টন চাল ও শুকনো খাবারের জন্য ৩৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে আরো ১০০ মেট্রিক টন চাল ও এক কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে তা দ্রুত বিতরণ করা হবে।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com