বৃহস্পতিবার, ০৯ Jul ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ময়ূর-২ লঞ্চের সুকানি মো. নাসির মৃধা (৪০) দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আর লঞ্চটির ইঞ্জিন চালক শিপন হাওলাদার ও শাকিল হোসেনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) রিমান্ড শেষে তিন আসামিকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নৌ পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল আলম। নাসির মৃধা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড এবং শিপন ও শাকিলকে রিমান্ড শেষে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহজাদী তাহমিদা নাসির মৃধার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকার আরেক চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব আহসানের আদালতে শিপন ও শাকিলের জামিন আবেদন করেন তাদের আইনজীবী। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ১৫ জুলাই ভোরে বাগেরহাটের বন্দর এলাকায় অবস্থানরত এমভি রাজিব-২ কার্গো জাহাজ থেকে নাসির মৃধাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরদিন তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
একইদিন ১৫ জুলাই সকালে রাজধানীর সূত্রাপুর এলাকা থেকে শিপন ও শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওইদিন বিকেলে আদালত প্রত্যেকের চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ১৬ জুলাই মামলাটিতে লঞ্চের মাস্টার আবুল বাশার মোল্লা দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলায় ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক হানিফ সোয়াদ, সুপারভাইজার আব্দুস সালাম রিমান্ড শেষে কারাগারে রয়েছেন।
তার আগে গত ২৯ জুন মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে মর্নিং বার্ড নামের একটি লঞ্চ সদরঘাটে পৌঁছানোর আগে চাঁদপুরগামী ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যায়। দুর্ঘটনায় মর্নিং বার্ডের ৩৪ যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পরের দিন ৩০ জুন রাতে নৌ-পুলিশের সদরঘাট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শামসুল বাদী হয়ে অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগ এনে ময়ূর-২ লঞ্চের মালিকসহ সাতজনের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
নগরকন্ঠ.কম/এআর