বৃহস্পতিবার, ০৯ Jul ২০২৬, ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন

দমিনাংকাবাউদ : বুনো মহিষের বিজয়ী

ডেস্ক নিউজ, নগরকন্ঠ.কম : সে এক আজব যুদ্ধ। মানুষ থাকল নীরব, যুদ্ধ করল বুনো মহিষ। সাধারণত আমরা দেখি, যুদ্ধে সৈন্যরাই অংশ নেয়। আর ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, মাঝে মাঝে দু’দলের প্রধান সেনাপতিরাও যুদ্ধের মীংমাসা করেছেন অনেক সময়।

উদাহরণ হিসেবে আমরা স্মরণ করতে পারি, সোহরাব-রুস্তম ও বাংলার ঈশা খাঁ ও মানসিংহের মধ্যকার যুদ্ধের কথা। এরকম যুদ্ধে সাধারণ সৈন্যরা মাঠে নামে না। তবে এগুলোর কোনোটিই নয়, একেবারে ভিন্ন ধরনের একটা যুদ্ধের বিষয় জানা যায় ইতিহাস ঘেঁটে। যুদ্ধটি ঘটেছিল জাভা এবং মালয়ের মধ্যে।

সুমাত্রা দ্বীপের অধিকার নিয়ে যুদ্ধটা হয়। দু’পক্ষের সৈন্য মোতায়েন শেষ। অস্ত্রের ঝনঝনানিতে প্রকম্পিত হচ্ছে যুদ্ধের ময়দান। নিজ নিজ সেনাপতির আদেশ পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়বে একে অন্যের ওপর। কিন্তু সেনাপতিরা নীরব। হঠাৎ সেনাপতিদের মধ্যে সিদ্ধান্ত হল, অযথা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে কী হবে?

তখন স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন চলে আসে তাহলে কি সন্ধি হবে? না, সেটাও সম্ভব নয়। তাহলে হবেটা কী? অবশেষে সিদ্ধান্ত হল, যুদ্ধ হবে তবে মানুষের মধ্যে নয়, মহিষের মধ্যে। দু’দেশের সেনাপতি দুটো মহিষ বাছাই করে দেবেন এবং এদের মধ্যেই সংঘটিত হবে যুদ্ধ। যে দলের মহিষ জিতবে তারাই হবে বিজয়ী। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুই পক্ষের দুই মহিষের মধ্যে শুরু হল যুদ্ধ। সারা দিন বিরামহীন চলতে থাকল লড়াই। সন্ধ্যার একটু আগে ক্লান্ত হয়ে পড়ল জাভার মহিষটি।

এই ফাঁকে মালয়ের মহিষ প্রচণ্ড ক্ষীপ্রতার সঙ্গে দিল এক গুঁতা। উল্টে পড়ে গেল জাভার মহিষ। সঙ্গে সঙ্গে ঢলে পড়ল মৃত্যুর কোলে। যুদ্ধের ফলাফল শর্তমতো দু’পক্ষই মেনে নিল। সুমাত্রা মালয়ের দখলে চলে এলো। সেদিন থেকেই সুমাত্রার জনগণকে ঠাট্টা করে আজও বলা হয়, ‘দমিনাংকাবাউদ’ অর্থাৎ বুনো মহিষের বিজয়ী।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com