বৃহস্পতিবার, ০৯ Jul ২০২৬, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন

ঈদ আনন্দ উপভোগ করি সবাইকে নিয়ে

নিউজ ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : গত বছর যারা কোরবানি দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে অনেকে করোনা সংকটের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দার কারণে এবার কোরবানি দেবেন না।

আবার অনেকেই হয়তো সামাজিক মর্যাদা ঠিক রাখার জন্য যেভাবেই হোক টাকা-পয়সার ব্যবস্থা করে কোরবানি দেবেন; কিন্তু যারা একেবারেই টাকা-পয়সা জোগাড় করতে পারবে না, শেষ পর্যন্ত তাদের আর কোরবানি করা হয়ে উঠবে না। অথচ ইসলামী শরিয়ত দ্ব্যর্থহীনভাবে বলে দিয়েছে, অর্থনৈতিক সমস্যায় থাকলে কোরবানি করা আবশ্যক নয়।

বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ বাংলাদেশে হানা দেয়ার পর থেকেই মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। দীর্ঘদিনের লকডাউনের সময় মানুষ কর্মহীন হয়ে ঘরবন্দি ছিল। চলতি জুলাই মাসের শুরু থেকে সরকার লকডাউন তুলে দিলে মানুষ স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করলেও অর্থনৈতিক যে সংকট তৈরি হয়েছে তা থেকে মুক্তি পেতে দীর্ঘদিন লেগে যাবে। করোনাকালীন পবিত্র ঈদুল ফিতর অনেকটা নীরবেই উদযাপন করেছে মানুষ।

ঈদুল ফিতরে নতুন জামা কেনার হিড়িক পড়লেও এবার ছিল ব্যতিক্রমী দৃশ্য। পবিত্র ঈদুল আজহায় নতুন জামা কেনার তাগাদা না থাকলেও কোরবানি করতে হয়। বর্তমান বাজারে শরিকে কোরবানি করলেও ন্যূনতম ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার প্রয়োজন, বর্তমান দুরবস্থায় যা অনেকের কাছেই অসাধ্য ব্যাপার।

আমাদের সমাজব্যবস্থায় একটি অত্যন্ত ভালো বিষয় যে, প্রতি বছর কোরবানি করার পর প্রতিবেশীদের মাঝে মাংস উপহার দেয়া হয়। যদিও এটি এখন সামাজিক নিয়মে পরিণত হয়েছে; কিন্তু এটা নবীজির সুন্নাতও।

গত বছর কোরবানি দেয়া অনেকেই এবার করোনার কারণে কোরবানি দিতে পারবে না। যাদের আমরা মধ্যবিত্ত বা নিুমধ্যবিত্ত বলি, তাদের মধ্যে যারা এবার কোরবানি দিতে পারবে না- তাদের সঙ্গে স্বেচ্ছায় নিজ উদ্যোগে কোরবানির আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়া এবার বেশি জরুরি।

প্রতিবেশীর হক সম্পর্কে পবিত্র কোরআন ও হাদিসে সুস্পষ্টভাবে বারবার বলা হয়েছে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, ওই ব্যক্তি মুমিন নয় যে, পেটপুরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী না খেয়ে থাকে। (মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস ২৬৯৯; আল আদাবুল মুফরাদ, হাদিস ১১২)। রাসূল (সা.) বলেছেন, জিবরাইল (আ.) আমাকে প্রতিবেশীর হকের ব্যাপারে এত বেশি তাকিদ করেছেন যে, আমার কাছে মনে হয়েছে প্রতিবেশীকে মিরাজের অংশীদার বানিয়ে দেয়া হবে। (বুখারি, হাদিস ৬০১৪; মুসলিম ২৫২৪)।

করোনা মহামারীর সময় অন্যান্য সময়ের চেয়েও প্রতিবেশীর খোঁজখবর এবার বেশি নেয়া দরকার। অনেক প্রতিবেশীই লজ্জায় মুখ ফুটে নিজের অভাবের কথা বলতে পারবে না। আগামীকাল বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। কোরবানির পশু জবাই করা হবে কাল থেকেই। আমরা যেন আমাদের প্রতিবেশীদের অধিকার যথাযথভাবে তাদের বুঝিয়ে দেই। তাদের সঙ্গে নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করি।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com