গবেষণা বলছে ফেসবুক জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি

গবেষণা বলছে ফেসবুক জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি

0

তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : যতই দিন যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর ততই তীক্ষ্ণ হচ্ছে। দুঃসময় যেন পিছু ছাড়ছে না জাকারবার্গের প্রতিষ্ঠিত বহুল ব্যবহৃত প্লাটফরমটির। এবার এক গবেষণা বলছে, ফেসবুক জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।

গত এক বছরে ফেসবুকে ৩৮০ কোটিবার স্বাস্থ্যবিষয়ক ভুল তথ্য দেয়া হয়েছে। কোভিড-১৯ সংকটের সময় ভুল তথ্যের এ তীব্রতা সবচেয়ে বেশি ছিল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংগঠন আভাজের গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য। সাম্প্র্রতিক এ গবেষণার আলোকে সংগঠনটির দাবি, ফেসবুক জনস্বাস্থ্যের জন্য ‘বড় হুমকি’ হয়ে উঠেছে।

এ গবেষণার লক্ষ্য ছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্যের বিস্তার রোধ করা। যদিও ফেসবুক বলেছে, গবেষণা প্রতিবেদনে ফেসবুকের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ব্যাপারে তেমন কিছু উঠে আসেনি। ফেসবুকের গৃহীত কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে- প্রায় ১০ কোটি তথ্যে সতর্কতামূলক লেবেল লাগানো এবং প্রায় ৭০ লাখ ক্ষতিকর তথ্য সরিয়ে ফেলার বিষয়টি।

আমরা দু’শ কোটিরও বেশি মানুষকে নির্দেশনা দিয়েছি এবং যখন কেউ কোভিড-১৯ সম্পর্কে কোনো লিংক শেয়ার করেছেন তখন আমরা তাদের বিশ্বাসযোগ্য স্বাস্থ্য তথ্যের সঙ্গে সংযোগ করার জন্য তাদের একটি পপ-আপ দেখিয়েছি, জানায় ফেসবুক। ফেসবুকের দাবির প্রসঙ্গে গবেষণা সংস্থা আভাজ বলছে, প্রতি ১০০টি ভুল তথ্যের মধ্যে মাত্র ১৬টিতে সতর্কতামূলক লেবেল যোগ করতে পেরেছে ফেসবুক। আর ভুল তথ্যের বিরাট অংশই এসেছে পাবলিক পেজ থেকে। এমন ৪২টি পেজে প্রায় দুই কোটি ৮০ লাখ অনুসারী রয়েছে।

আভাজের প্রচারণা পরিচালক ফাদি কুরআন বলছেন, ফেসবুকের অ্যালগরিদম জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকি। ‘মার্ক জাকারবার্গ মহামারী চলাকালীন নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অথচ তার অ্যালগরিদম ফেসবুকের ২৭০ কোটি ব্যবহারকারীর বড় একটি অংশকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে ভুল তথ্য-প্রচারের নেটওয়ার্কগুলোয় টেনে নিয়ে এ উদ্যোগের ক্ষতি করছে।’ ‘ফেসবুক যতক্ষণ না তার অ্যালগরিদমকে বিষমুক্ত করছে ততক্ষণ এই তথ্য-মহামারীটি স্বাস্থ্যগত মহামারীকে আরও খারাপ জায়গায় নিয়ে যাবে,’ যোগ করেছেন ফাদি কুরআন। নিউজ ফিডে ভুল তথ্য সম্পর্কিত পোস্টগুলোর র‌্যাংকিং কমিয়ে সেগুলোর নাগাল সীমিত করা উচিত বলেও জানায় আভাজ।

‘ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন অব মেডিকেল স্পেশালিস্টস’-এর মহাসচিব ড. জোয়াও মিগুয়েল গ্রেনহো বলেছেন, মার্ক জাকারবার্গকে এ তথ্য-মহামারী বন্ধে আমাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে। নইলে টিকার বিরুদ্ধে বিষিয়ে তোলা মানুষের সংখ্যা এত বেড়ে যাবে যে, এ মহামারী সামাল দেয়া যাবে না। এদিকে ফেসবুক বলছে, তারা স্বাস্থ্যবিষয়ক ভুল তথ্যের বিস্তার রোধে উদ্যোগ নিচ্ছে এবং কেউ যদি ফেসবুকের সার্চ বাক্সে ‘ভ্যাকসিন’ শব্দটি লেখেন তবে আপনি নির্ভরযোগ্য তথ্যের দিকে দৃষ্টি রাখতে পারেন।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন