শিশু আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তার দ্বিতীয় দিনের সাক্ষ্য গ্রহণ

শিশু আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তার দ্বিতীয় দিনের সাক্ষ্য গ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : বরগুনার চাঞ্চল্যকর শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় শিশু আদালতে দ্বিতীয় দিনেও সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ূন কবির।

সোমবারও শিশু আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তার জবানবন্দি শেষ হলে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করবেন।

অপরদিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে প্রাপ্ত বয়স্ক ১০ আসামির আগামী বুধবার যুক্তিতর্ক শুরু হবে। করোনাভাইরাসের কারণে পাঁচ মাস বিচারকার্য বন্ধ থাকার পর রোববার শিশু আদালতে আবার বিচারকার্য শুরু হয়।

সোমবার সকাল ১০টায় বরগুনা কারাগারে থাকা শিশু ওয়ার্ড থেকে ৬ জন অপ্রাপ্ত কিশোরকে বরগুনা শিশু আদালতের বিচারক ও জেলা জজ মো. হাফিজুর রহমানের আদালতে পুলিশ পাহারায় হাজির করা হয়।
হাজতি অপ্রাপ্ত কিশোর আসামিরা হল- রাশেদুল হাসান রিশান ফরাজি, ওয়ালিউল্লাহ অলি, তানভির হোসেন, রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার, আবদুল্লাহ রায়হান ও নাঈম।

জামিনে থাকা ৮ জন কিশোর আসামিও আদালতে উপস্থিত ছিল। সকাল সাড়ে ১০টায় অপ্রাপ্ত কিশোরদের জন্য বিশেষ কামরায় আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ূন কবির সাক্ষ্য দিয়ে যুগান্তরকে বলেন, আদালতে অনুমতি নিয়ে রিফাত হত্যার ভাইরাল হওয়া ভিডিও বড় পর্দায় বিচারক ও আসামিদের রোববার দেখানো হয়েছে।

দ্বিতীয় দিনে আমি আদালতে জবানবন্দি দেয়া শুরু করেছি। আমি দুই মাস ছয় দিন এই মামলাটি তদন্ত করে দুইখণ্ডে ২৪ জন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দালিখ করি। প্রাপ্ত বয়স্ক ১০ জন আসামি। অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোর ১৪ জন। অভিযোগপত্র বড় হওয়ায় জবানবন্দি দিতে সময় লেগেছে।

আমি আশা করি মঙ্গলবার আমার জবানবন্দি দেয়া শেষ হবে। তারপর আসামি পক্ষের একাধিক আইনজীবী আমাকে জেরা করবেন।

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ইতিপূর্বে ৭৫ জনের সাক্ষ্য দেয়া শেষ হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তার দ্বিতীয় দিনের মত সাক্ষ্য দেয়া শেষ করেছেন। এখনও তার জবানবন্দি শেষ হয়নি।

জবানবন্দি শেষ হলে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেরা শুরু করবেন। জেরা শেষ হলে যুক্তিতর্ক শুরু হবে। আদালত নিয়মিত চালমান থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এ মামলার রায় হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষ আশাবাদী এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে। আসামি জয় চন্দ্র সরকার চন্দনের আইনজীবী মাহবুবুল বারী যুগান্তরকে বলেন, তদন্তকারী কর্মমকর্তা তার জবানবন্দি শেষ করতে আরও ২ দিন লাগতে পারে।

এরপর ১৪ জন আসামির পক্ষে একাধিক আইনজীবী তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেরা করবেন। আমার আসামি নির্দোষ। তাকে অযথা হয়রানি করার জন্য এ মামলায় জড়িত করেছে। তাছাড়া আসামি বাকপ্রতিবন্ধী। আদালত সন্তুষ্ট হয়ে তাকে জামিন দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে যখম করে নয়ন বন্ডের গড়া কিশোর গ্যাঙ বন্ড গ্রুপ।

এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ১ সেপ্টেম্বর দুইখণ্ডে অভিযোগপত্র বয়স্ক ১০ জন ও কিশোরখণ্ডে ১৪ জন দাখিল করেন।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন