খ্যাতির বিড়ম্বনায় ফারহানা

খ্যাতির বিড়ম্বনায় ফারহানা

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : গায়ে হলুদে মোটরসাইকেল চালিয়ে ভাইরাল হওয়া যশোরের ফারহানা আফরোজ এখন খ্যাতির বিড়ম্বনায় রয়েছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি জানান, এখন শ্বশুর বাড়িতে রয়েছেন। ভাইরাল হওয়ার খ্যাতি কেমন লাগছে? এমন প্রশ্নে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, এটা খ্যাতি না কুখ্যাতি?

তিনি বলেন, আমার খুব শখ ছিল গায়ে হলুদে এমন বিষয়টার। কিন্তু সমস্যা যেটা হচ্ছে, মানুষ খুব মিথ্যা কথা বলছে। উল্টাপাল্টা প্রচার চলছে। ফেসবুকে বিরূপ মন্তব্য করছে। এগুলো ভালো কিছু না। একটা ছেলে যদি এটা করতো তাহলে কিছুই হতো না। আমার পোশাকও জঘন্য কিছু ছিল না। আমি লেহেঙ্গা পরেছিলাম। হলুদের পোশাকেই ছিলাম। আমি কিন্তু হলুদের পোশাক পরেই বাইক চালিয়েছি। আবার মানুষ এটাও ছড়াচ্ছে- আমি নাকি বাইক নিয়ে বর নিতে এসেছি। আমি পার্লার থেকে হলুদের সাজ সেজে গিয়েছি, বাইক নিয়ে বর নিতে এসেছি? এটা কোথা থেকে আসল আমি বুঝতে পারছি না। এসব বিষয়গুলো কেমন লাগতে পারে ভাবুন।

‘কথা হলো- যেটা হয়নি, সেটা কেন মিথ্যা প্রচার হবে?’ তিনি এসব বিষয়ে তার স্বামীকে না টানতে এবং সাংবাদিকদের তার স্বামীকে ফোন না করতেও অনুরোধ করেন। শ্বশুরের পক্ষ থেকে মোটরসাইকেল উপহারের বিষয়ে বলেন, আসলে মানুষজন বেশি বাড়াবাড়ি করছে। আসলে ব্যাপারটা তেমন না। ঢাকায় চলাচল করা খুবই পীড়াদায়ক। মোটরসাইকেল হলে একটু ভালোভাবে চলা যায়। আমি চাচ্ছি না এটা নিয়ে কোনো নিউজ আসুক। আসলে ঢাকা শহরে একটা বাইক বা স্কুটি হলে সহজে চলাচল করা যায়। অনেকে ফেসবুকে বলছেন, শালীনভাবেও বাইক চালানো যায়। আমি অশালীনটা কি করেছি?

তিনি বিয়ের বিষয়ে বলেন, আসলে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল আমার বিয়ে হয়। আমার পড়াশোনা ছিল, বিয়ের ক’দিন পরে আমার বাবা মারা গেছে। একারণে অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি। সবকিছু মিলিয়ে আমার বিয়ের প্রোগামটা করা হয়নি। ২৬ মার্চ প্রোগাম করার কথা ছিল। করোনার কারণে দুই দিন আগে লকডাউন হয়ে যায়। যার কারণে আমি প্রোগামটা করতে পারিনি। ঈদের পর প্রোগাম করে শ্বশুর বাড়িতে আসা। তিনি আরো বলেন, তখন পারিবারিকভাবে কলমা হয়েছিল। তবে অনুষ্ঠান করে উঠিয়ে নেওয়া হয়নি। আমার একটা ছোট ছেলেও আছে। তার বয়স এক মাস ২৫ দিন। তার নাম চাহাত হাসান। মোটরসাইকেল র‌্যালির বিষয়টি আমার শ্বশুর বাড়ির লোকজন স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৩ আগস্ট গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে বাইক চালিয়ে ভাইরাল হন ফারহানা আক্তার। ১৪ আগস্ট তাকে আনুষ্ঠানিকভাবেভাবে তুলে নেওয়া হয়। তার বিয়ে হয় পাবনার কাশিনাথপুরের বাসিন্দা ও টেক্সটাকইল ইঞ্জিনিয়ার হাসনাইন রাফির সাথে। গায়ে হলুদের শোভাযাত্রার ছবি একাজে নিযুক্ত ফটোগ্রাফার তার অনুমতি নিয়ে ফেসবুকে দেন। এরপর এ ছবি ভাইরাল হয়।

ফারহানা আফরোজ সাংবাদিকদের বলেন, নেচেগেয়ে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান করেছি। আমি বাইক চালাতে পারি তাই বাইক চালিয়ে অনুষ্ঠান করেছি। ব্যতিক্রমী কিছু করার ভাবনা থেকেই এমন আয়োজন। এটি আমার নিজের উদ্যোগে করেছি। অনেক আনন্দ করেছি।

২০১১ সালে যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং যশোর আব্দুর রাজ্জাক কলেজ থেকে ২০১৩ সালে এইসএসসি পাস করেন ফারহানা। এখন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে এইচআরএ-এমবিএ করছেন। তিনি জানান, ২০০৭ সাল থেকে বাইক চালান। বাড়িতে ছোটবেলাতেই সাইকেল ও প্রাইভেট কার চালানো শেখা। বাবার মোটরসাইকেল চালানোর ঝোঁক ছিল। ঢাকায় আসার পর ২০১৩ সালে বন্ধুদের বাইকে হাত পাকাই। এরপর স্কুটি কিনি। ওই স্কুটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করি।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন