পানির নিচে চাষের জমি

পানির নিচে চাষের জমি

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : বাগেরহাটের শরণখোলায় আমনের মাঠে কোমর সমান পানি। কিছু কিছু উঁচু এলাকার জমিতে ইরি চাষ হলেও কয়েক হাজার একর মোটা ধানের জমি এখনো খিল পড়ে আছে। পানির জমে থাকায় চাষাবাদ করা যাচ্ছে না। চারার বয়স বেড়ে যাচ্ছে। গিট ধরে গেছে অনেক বীজতলায়। সময় মতো চাষ ও চারা রোপণ করতে না পারলে এবার চাহিদামতো ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কিনা সেই শঙ্কায় পড়েছেন চাষিরা। দ্রুত মাঠের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ২৬টি ফ্লাস গেট সচল রাখার দাবি জানিয়েছে কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আমনের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বহু জমিতে এক চাষ দেওয়ার পর জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় সেখানে আর দ্বিতীয়বার চাষ করা সম্ভব হয়নি। মাঠে গলা সমান ঘাস জন্মেছে। কেউ কেউ কোমর সমান পানির মধ্যে সেই ঘাস-আগাছা পরিষ্কার করছে। অনেকে এখনো চাষই করতে পারেনি জমিতে।

উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের সিংবাড়ি গ্রামের কৃষক বাদল আকন জানান, তিনি ১০ বিঘা জমির মধ্যে রোপণ করেছেন চার বিঘা। বাকি জমিতে পানি জমে থাকায় চাষ করতে পারেনি।

খোন্তাকাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ আমড়া গাছিয়া গ্রামের কৃষক ফজলু তালুকদার জানান, ১৬ বিঘা জমির মাত্র ছয় বিঘা চাষ ও রোপণ করেছেন। পানি জমে থাকায় বাকি জমি চাষ করতে পারছেন না।

চাষিদের অভিযোগ, ওয়াপদার বেড়িবাঁধের স্লুইস গেটগুলো (ফ্লাসগেট) কৃষকের কোনো কাজে আসছে না। মাঠঘাঠ তলিয়ে গেলে পানি নামানোর কোনো ব্যবস্থা করা হয় না। আবার যখন পানির প্রয়োজন হয় তখন ওঠানো হয় না। তাছাড়া রক্ষণাবেক্ষনের নির্দিষ্ট লোক না থাকায় স্থানীয়রা মাছ ধরার কারণে গেটগুলো ইচ্ছেমতো ব্যবহার করছে। ফলে গেটগুলো এখন কৃষকের গলার কাটায় পরিণত হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌমিত্র সরকার জানান, এবছর উপজেলার চারটি ইউনিয়নে ৯ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে অতি বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে থাকায় তুলনামূলক নিচু এলাকায় জমি চাষ ও রোপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এপর্যন্ত মাত্র ৬০০ হেক্টর জমির চাষাবাদ সম্পন্ন হয়েছে। গেট সচল রাখার জন্য উপজেলা সমন্বয় সভায় আলোচনা করা হয়েছে।

এব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের (সিইআইপি) খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম বলেন, বাঁধের কাজ চলমান রয়েছে। কাজ শেষ হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড গেটগুলো তদারকি করবে। আপাতত স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে গঠিত ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপকে এগুলো রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, কৃষি জমির জলাবদ্ধতা নিরসণে ফ্লাস গেটগুলো সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সিইআইপি প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আগামীকাল (বুধবার) বৈঠকের কথা রয়েছে। তারপরও যে কোনোভাবে দ্রুত মাঠের পানি সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন