উত্তরা ১০নং সেক্টরে দখলের মহোৎসব দুর্ভোগে স্থানীয়রা

উত্তরা ১০নং সেক্টরে দখলের মহোৎসব দুর্ভোগে স্থানীয়রা

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : রাজধানীর উত্তরা আবাসিক এলকায় ঢাকা-আশুলিয়া মহাসড়কের পাশে ১০নং সেক্টরের ১৩নং রোডে (রানাভোলা এভিনিউ) চলছে দখলের মহোৎসব।

স্লুইস গেট থেকে সাহেব আলী মাদ্রাসা পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ কাঁচাবাজার, কাঠ-বাঁশের দোকান, মুদি-মনোহারি, চা-পানের দোকান, ক্ষমতাসীন দলের কার্যালয়, নার্সারি, খাবার হোটেল এবং নির্মাণ সামগ্রীর দোকানসহ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সেক্টরের অভ্যন্তরীণ সড়কে চলছে বাস-ট্রাক-পিকআপ। ফলে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লেগে থাকে যানজট। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ১০নং সেক্টর কল্যাণ সোসাইটি বারবার অভিযোগ জানালেও অবৈধ স্থাপনার প্রতিকার মিলছে না।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে সরকারদলীয় স্থানীয় প্রভাবশালী মহল, রাজউকের মাঠ পর্যায়ে কিছু কর্মচারী, পুলিশের কিছু সদস্য দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক মাসোয়ারা নিয়ে থাকেন। সোমবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, স্লুইস গেট মসজিদ ঘিরে গড়ে উঠেছে হোটেল, মুদি ও মাছ-তরকারির অর্ধশতাধিক দোকান। একটু উত্তরে বিশাল জায়গা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের অফিস, নার্সারি, ইট-পাথর-খোয়া বিক্রির দোকান। ভার্সিটি গেটসংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়ের এক পাশে শ্রমিক লীগের কার্যালয়। শুধু পশ্চিম থানা এলাকায় শ্রমিক লীগের ৪-৫টি কার্যালয় রয়েছে বলে জানা গেছে।

অপর পাশে গড়ে উঠেছে চা-পান, মুদি দোকান ও খাবার হোটেল। একটু এগোতেই পাইকারি বাঁশ ও কাঠের দোকান। কয়েক বিঘা জমিতে গড়ে উঠেছে কাঁচামালের বাজার। কামারপাড়া বাস স্টপেজ পেরিয়ে সাহেব আলী মাদ্রাসা পর্যন্ত খাবার হোটেল, চা-পানের দোকান, গজারি কাঠের ব্যবসা, চোরাই তেল বিক্রির ঝুপড়ি, রিকশা ও গাড়ির গ্যারেজ।

১০নং সেক্টর কল্যাণ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইনসাফ আলী ওসমানী যুগান্তরকে জানান, রাজউক এবং সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন ওই জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছে কিছু প্রভাবশালী লোক। মাঝে মাঝে রাজউক এবং সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের আওতায় আনা হয়। তিনি বলেন, বিশ্ব ইজতেমা শুরুর আগে পুরো এলাকা উচ্ছেদের আওতায় আনা হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি আবার কিছু অসাধু লোক অবৈধভাবে স্থাপনা তুলে ব্যবসা করছে। তিনি বলেন, ১০নং সেক্টর কল্যাণ সোসাইটির পক্ষ থেকে রাজউক, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সিটি কর্পোরেশনকে বারবার উচ্ছেদের জন্য চিঠি দেয়া হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

উত্তরা পশ্চিম ট্রাফিক বিভাগের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফ যুগান্তরকে জানান, ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের জসিমউদ্দিন রোড থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত বিআরটি প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় ওই এলাকার রাস্তার দৈর্ঘ্য কমে গেছে। সড়ক গাড়ি চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় জসিমউদ্দিন রোড, রবীন্দ্র সরণি হয়ে এবং উত্তরে আশুলিয়া থেকে আসা বহু গাড়ি সেক্টরের ভেতরের রাস্তা ব্যবহার করে। এ কারণে যানজটের তৈরি হচ্ছে। পুলিশ সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করছে। রাজউক-উত্তরার নির্বাহী প্রকৌশলী রাহাত মুসলেমীন বলেন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী আফছার উদ্দিন খান জানান, তিনি মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে আলোচনা করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ব্যবস্থা নেবেন।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন