ধানক্ষেতে ‘সাকার ফিশ’!

ধানক্ষেতে ‘সাকার ফিশ’!

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : সাকার ফিশ। এই মাছটি আমাদের দেশে বিরল প্রজাতির। এর ডোরাকটা শরীরের ওপরের অংশ কচ্ছপের খোলসের মতো শক্ত এবং ধারালো কাটাযুক্ত। বুকের দিকটা কুমিরের মতো দেখতে। পিঠের ওপরে ও ঘাড়ের দুই পাশে রয়েছে বড় তিনটি কাটা। সাঁতার কাটার জন্য বুকের দুই পাশে রয়েছে দুটি ফুলকা। মাথা-মুখ কিছুটা হাঙর আকৃতির। থুতনির নিয়ে ছোট্ট তুলতুলে দুটি দাঁড়িও আছে। তবে মুখের ভেতরে কোনো দাত নেই।

গত এক সপ্তাহ আগে বাগেরহাটের শরণখোলার ধানক্ষেতে পাতা বুচনায় (বাঁশের তৈরী মাছ ধরা ফাঁদ) ধরা পড়েছে এমন একটি দৃষ্টিনন্দন ও বিরল প্রজাতির মাছ। উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের রাজৈর গ্রামের আল মামুন নামের এক কনফেকশনারী ব্যবসায়ী মাছ ধরার জন্য বাড়ির পেছনের ধানক্ষেতে বুচনা পেতে রাখেন। তার ওই বুচনায় অন্যান্য মাছের সঙ্গে ধরা পড়ে ওই সাকার ফিশটি। লেজসহ মাছটি প্রায় দেড়ফুট লম্বা। বর্তমানে মাছটি তার দোকানে একটি একটি বড় গামলায় রাখা হয়েছে। প্রতিদিন বহু মানুষ তার দোকানে ভিড় করছে বিরল এই মাছটি দেখার জন্য।

ব্যবসায়ী আল মামুন জানান, এই মাছ তিনি এর আগে কখনো দেখেননি। দেখতে খুব সুন্দর তাই মাছটি না মেরে দোকানে একটি বড় গামলায় রেখে দিয়েছেন। ভাত, রুটি খাচ্ছে মাছটি। প্রতিদিন অনেক মানুষ আসছে মাছটি দেখার জন্য। এতে ভালোই লাগছে তার। তাই চিন্তা করেছেন, একটি কাচের অ্যাকোরিয়াম বানিয়ে তাতে রেখে দেবেন মাছটি।

শরণখোলা উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় বলেন, সাকার ফিশ একটি শান্তি প্রিয় অ্যাকোরিয়াম মাছ। এটি আমাদের দেশে বিরল হলেও গত কয়েক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকার নদ-নদী ও উন্মুক্ত জলাশয়ে জেলের জালে এবং মাছধরা ফাঁদে মাছটি ধরা পড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে বাগেরহাটের এই অঞ্চলে এর আগে পাওয়া গেছে কিনা তা জানা যায়নি।

মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, সাকার ফিশ ব্রাজিলের আমাজন, পেরু, আমেরিকাতে ব্যাপক পরিমানে পাওয়া যায়। এটি মিঠা পানির মাছ। এটি ৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। বাংলাদেশে এই সাকার ফিশ নিয়ে তেমন কোনো গবেষণা নেই।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন