বুধবার, ০৮ Jul ২০২৬, ১১:২৫ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ভূমিহীনদের খাস জমি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। মির্জাপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চন্দন সরকার খাস জমি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ওই ওয়ার্ডের কয়েকজন ভূমিহীনদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগ নেতা চন্দন সরকার ওই ওয়ার্ডের কান্ঠালিয়া গ্রামের সাধন মিনদাসের ছেলে সুধীর মনিদাসের কাছ থেকে ২০ হাজার, অরুণ মন্ডলের ছেলে বিপেন মন্ডলের কাছ থেকে ২০ হাজার, খগেন্দ্র মনিদাসের ছেলে বাসুদেব মনিদাসের কাছ থেকে ১৫ হাজার ও নেপাল মনিদাসের ছেলে খোকন মনিদাসের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেন।
খাস জমি পাওয়ার আশায় ভূমিহীন পরিবারগুলো সুদে টাকা এনে এক বছর আগে আওয়ামী লীগ নেতা চন্দন সরকারের কাছে দেন। বছর পার হলেও ওইসব পরিবারগুলোকে জমি পাইয়ে দেননি তিনি। এদিকে ঋণের টাকা পরিশোধে বিপাকে পড়েছে পরিবারগুলো।
জমির কথা বলতে গেলে চন্দন সরকার তাদের বলেন, আর কয়েকদিন ধৈর্য্য ধরো। তোমাদের নামে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানান, চন্দন সরকার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদানের কথা বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। ভূমিহীনদের সরকারি খাস জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা বলে ওই ওয়ার্ডের মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি নিজেই পৌরসভা থেকে তাদের নামে ভূমিহীন সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেছেন। তিনিই আবার উপজেলা ভূমি অফিস থেকে খাস জমি পাওয়ার আবেদন ফরম সংগ্রহের পর তা পূরণ করে উপজেলা ভূমি অফিসে জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে সোমবার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে গিয়ে তাদের নামে কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি।
মির্জাপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চন্দন সরকার বলেন, এলাকায় রাজনীতি করতে হলে মানুষের কিছু কাজ করতে হয়। সেজন্য আমি ভূমিহীন চারজনকে খাস জমি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে কিছু টাকা নিয়েছি। আবার একজনকে ১০ হাজার টাকা ফেরতও দিয়েছি।
মির্জাপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলম মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, টাকা নেওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। চন্দন সরকারের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদ জানান, চন্দন সরকারের বিরুদ্ধে ভূমিহীনদের জমি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলের সভাপতি মো. একাব্বর হোসেন এমপির সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জুবায়ের হোসেন জানান, ভূমিহীনদের কাছ থেকে তিন মাস অন্তর আবেদন নেওয়া হয়। খাস জমি পেতে রেজিস্ট্রি ফিস ছাড়া কারো কোনো খরচ হয় না। ভূমিহীন সকলেই আবেদন করতে পারবে। তবে যাচাই-বাছাই শেষে প্রকারভেদে জমি বরাদ্ধ দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।
নগর কন্ঠ.কম/এআর