বুধবার, ০৮ Jul ২০২৬, ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : প্রায় ১৫ দিন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে যন্ত্রণা সহ্য করে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন মাগুরা অগ্নিদগ্ধ কলেজ ছাত্রী আঁখি খাতুন (২০) ।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে বারোটার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সেখানেই আজ বিকেলে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার মা নারগিস বেগম।
আঁখির বাড়ি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালি ইউনিয়নের কেড়িনগর গ্রামে। তিনি মহম্মদপুর সদরের কাজী সালিমা হক মহিলা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।
গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় বসত ঘর থেকে ১০ গজ দূরে আঁখিকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে তার বাড়ির লোকজন। এ ঘটনায় আঁখির সাবেক স্বামী মাসুদ রানা ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে হাত-পা বেঁধে গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়। পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালি ইউনিয়নের কেড়িনগর গ্রামের আকরাম মোল্যার মেয়ে আঁখি খাতুন ও প্রতিবেশি মাসুদ রানা মোল্যার ছেলে নাজমুল স্থানীয় একই স্কুলে পড়ার সময় প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। দুই বছর আগে তারা পরিবারকে না জানিয়ে নিজেরা বিয়ে করেন। ছয়মাস সংসার করার পর আঁখি নাজমুলের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।
সম্প্রতি উভয়ের মধ্যে আবার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। নাজমুল আঁখিকে বিয়ে করার জন্য তার পরিবারকে নানাভাবে চাপ দিতে থাকে। ছেলের মামা একই গ্রামের অধিবাসী বাবুল মোল্যা ও মুকুল মোল্যা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে মেয়ের বাবার বাড়িতে একাধিকবার আসলেও আঁখির পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করে।
আঁখির দাদা রতন মোল্যা (৭০) জানান, ১৫ আগস্ট সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে আঁখির ঘরের আনুমানিক ১০ গজ দূরে আগুন ও চিৎকার শুনে এগিয়ে যান। তিনি তখন ঘরের বারান্দায় বসে ছিলেন। গিয়ে দেখেন নাতী আঁখির গায়ে আগুন জলছে। জ্বালানি তেলের বিকট গন্ধ বের হচ্ছে। নিজের ওড়না দিয়ে শৌচাগারের বাঁশের খুটির সঙ্গে আঁখির হাত পা বাঁধা দেখতে পান বলে জানান।
প্রতিবেশি আরও ৪/৫ জনের সহায়তায় পানি ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে আঁখিকে উদ্ধার করে ঘরের বারান্দায় নিয়ে আসেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় প্রথমে তাকে মাগুরা সদর হাসপাতাল তারপর ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানন্তর করা হয়।
ঢামেকের বার্ন ইউনিটে সঙ্গে থাকা আঁখির মা নারগিস বেগম ফোনে বলেন, ‘তার মেয়েকে (আঁখি) আবার বিয়ে করতে ব্যর্থ হয়ে সাবেক স্বামী নাজমুল ও তার স্বজনেরা হাত-পা বেধে গায়ে কেরাসিন দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে।
এ ঘটনায় আঁখির দাদা রতন মোল্যা বাদী হয়ে সাবেক স্বামী নাজমুল মোল্যাকে প্রধান আসামি করে সাতজনের নামে মহম্মদপুর থানায় একটি মামলা করেছেন। পুলিশ তালিকাভুক্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।
আটককৃতরা হলেন কামরুল (৫০),মাসুদ (৪৫), হারেজ মোল্যা (৬২) আরিফ মোল্যা (২৬) ও বাবুল মোল্যা (৪৫)।
মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারক বিশ্বাস জানান, ‘মামলা হয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে।’
নগর কন্ঠ.কম/এআর