বুধবার, ০৮ Jul ২০২৬, ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন

প্রায় চার মাস পর ভারতে কারাবন্দি ২৫ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় করোনাকালে ভারতের কারাগারে প্রায় চার মাস জেল খেটে ২৫ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন।

কারামুক্তির পর বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চেংড়াবান্ধা-বুড়িমারি চেকপোস্ট দিয়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।

দেশে ফেরা এ ২৫ বাংলাদেশির বাড়ি কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নে।

বুড়িমারি চেকপোস্টে আটক বাংলাদেশিদের গ্রহণ করতে যাওয়া রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণ কমিটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাবেক সভাপতি ও সংগঠক নাহিদ হাসান নলেজ ও ফেরত আসা বাংলাদেশি নাগরিকদের স্বজনরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ৩ মে দেশে ফেরার সময় ভ্রমণ ভিসা নিয়ে ভারতে যাওয়া ২৬ বাংলাদেশিকে আটক করে ভারতের ধুবড়ি পুলিশ। এদের একজন ভারতে কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। প্রায় চার মাস কারাভোগের পর গত ২৯ আগস্ট বাকি ২৫ জনের মুক্তির আদেশ দেয় ভারতের ধুবড়ি আদালত। তাদের সবার বাড়ি কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায়।

নাহিদ হাসান নলেজ জানান, ‘বৈধ ভিসায় ভারতে গিয়ে করোনাকালে আইনের বেড়াজালে আটক ২৫ বাংলাদেশি প্রায় চার মাস ভারতের কারাগারে আটক থাকার পর আদালতের আদেশে কারামুক্ত হয়ে আজ ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন। ফেরত বাংলাদেশি কয়েকজনের স্বজনসহ আমি নিজেও বুড়িমারি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে তাদের গ্রহণ করতে এসেছি। এখন তাদেরকে নিয়ে আমরা চিলমারীর পথে রওয়ানা হবো।’

নাহিদ হাসান আরও জানান, ভারতের হাইকোর্টের আইনজীবী অসীম দাস গুপ্ত এবং ধুবড়ি আদালতের আইনজীবী রাজস্বী দাস গুপ্ত আটক বাংলাদেশিদের পক্ষে আইনি লড়াই করে তাদেরকে কারামুক্ত করেছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময় কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের ২৬ বাংলাদেশি ভারতে যান। বৈধ পাসপোর্ট ও ভ্রমণ ভিসা থাকলেও ভারতে দ্বিতীয় ধাপের লকডাউন চলার মধ্যে গত ২ মে ওই ২৬ বাংলাদেশি দুটি মিনিবাসে আসামের জোরহাট জেলা থেকে দেশে ফেরার উদ্দেশে রওনা দেন। পশ্চিমবঙ্গের চেংরাবান্ধা চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা ছিল তাদের। ভারতে জেলে ও খামারকর্মী হিসেবে কাজ করা এসব বাংলাদেশিকে পরদিন (৩ মে) সকালে বাহালপুর এলাকা থেকে আটক করে আসামের ধুবড়ি জেলা পুলিশ। করোনা পরীক্ষার পর তাদের পাঠানো হয় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে।

গত ৫ মে ওই ২৬ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে জালিয়াতি এবং ফরেনার্স (সংশোধিত) অ্যাক্ট, ২০০৪ এবং পাসপোর্ট অ্যাক্ট, ১৯৬৭’র ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা দায়ের করে দেশটির পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পাসপোর্টধারী এসব বাংলাদেশি টি-ওয়ান ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। এই ভিসাধারীদের কাজের অনুমতি না থাকলেও আসাম পুলিশের অভিযোগ, এই বাংলাদেশিরা রাজ্যের জোরহাট, গোলাঘাট ও শিবসাগর এলাকায় কর্মসংস্থান কার্যক্রমে যুক্ত থেকে ভিসার শর্ত ভঙ্গ করেছেন।

তাদের মুক্তির দাবিতে কুড়িগ্রামে একাধিকবার মানববন্ধন করেন আটক ব্যক্তিদের স্বজনরা। এরমধ্যে গত ১ জুলাই কারা হেফাজতে বকুল মিয়া নামে এক বাংলাদেশি মারা গেলে চারদিন পর তার মরদেহ দেশে স্বজনদের কাছে ফেরত পাঠানো হয়। অপর ২৫ বাংলাদেশি প্রায় চার মাস পর আজ কারামুক্ত হয়ে দেশে ফিরলেন।

নগর কন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com