বুধবার, ০৮ Jul ২০২৬, ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : কুড়িগ্রামের উলিপুরে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথেই তিস্তা-ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। টানা কয়েকদিনের তিস্তুা নদীর ভাঙনে বসতবাড়িসহ কয়েক শ একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়াও চরম হুমকির মুখে রয়েছে স্কুল, মাদরাসা ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিকসহ সরকারি-বেসরকরি স্থাপনা। স্থানীয় লোকজন বাঁশ, গাছের গুঁড়ি ফেলে ভাঙনরোধে চেষ্টা করছেন। ভাঙনকবলিত পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ভিটে-মাটি হারিয়ে এসব মানুষ খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
সরেজমিনে উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের গোড়াইপিয়ার গ্রামের গিয়ে দেখা যায়, প্রতি মুহূর্তেই ভেঙে যাচ্ছে রোপা আমন ক্ষেত। ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষজন তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে পার্শ্ববর্তী উচু স্থানে। দীর্ঘ বন্যার ধকল কাটতে না কাটতেই ভাঙনের শিকার মানুষজন দিশেহারা।
এ সময় কথা হয় ওই গ্রামের নুরুল হকের সঙ্গে; তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, হাল গিরস্ত সইগ আছিল বাহে, আইজক্যা মুই নিঃস্ব হয়া গেনু। এহন হামাক বান্ধের আস্তাত যায়া থাকা নাগবে। একই কথা বলেন ওই গ্রামের আজিজার রহমান, আবুল মালেক, জয়নাল আলী, মোস্তা মিয়াসহ অনেকে। তারা জানান, তিস্তার ভাঙনের এ গ্রামের মানুষ তাদের ঘর-বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে নদের তীব্র ভাঙনে গোড়াইপিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিয়ারী দাখিল মাদরাসা, গোড়াইপিয়ার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ঝাঁকুয়াপাড়া, মন্ডলপাড়া, কুমারপাড়া, মুলাধোয়ারপাড় গ্রামসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক ঘর-বাড়ি সহস্রাধিক একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়াও উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকার নীলকণ্ঠ, কুমারপাড়া, দাঁগার কুঠি, মাঝি পাড়া, পালেরঘাটসহ কয়েকটি এলাকায় অব্যাহত ভাঙন রয়েছে।
কুড়িগাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি, দ্রুত ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হবে।
নগর কন্ঠ.কম/এআর