বুধবার, ০৮ Jul ২০২৬, ০৭:২২ পূর্বাহ্ন

ভরা মৌসুমেও মধুমতিতে ইলিশের দেখা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পূর্বপাশ দিয়ে প্রবাহিত মধুমতিতে শত শত জেলে প্রতিদিন জাল ফেলছেন ইলিশের আশায়। কিন্তু হতাশ হয়েই নদী থেকে ফিরছেন তারা।

এখন ইলিশের ভরা মৌসুম। তাও ইলিশের দেখা নেই। দুই একটি পাওয়া গেলেও তার দামটাও ঝলকানো।

মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জলবায়ু পরিবর্তন হওয়ায় ইলিশের পরিভ্রমণের সময় পরিবর্তিত হয়েছে। এতে মৌসুম থাকা সত্ত্বেও জালে ধরা দিচ্ছে না ইলিশ। তবে ঝোড়ো আবহাওয়াসহ বৃষ্টিপাত বাড়লেই ইলিশ পাওয়া যাবে।

দীর্ঘদিন মাছ ধরছেন এমন কয়েকজন জানান, ইলিশ মাছ ঝাঁক বেঁধে সোজাসুজি চলাচল করে। বাধা পেলে ইলিশ গতি পরিবর্তন করে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের ঋতুগুলোতেও আলাদা বৈচিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর প্রভাবে মৌসুমের আগ-পিছ হচ্ছে।

তারা মনে করছেন, কয়েক বছর ধরে বর্ষা মৌসুম অনেকটা দেরিতে শুরু হচ্ছে। এটা ইলিশ ধরা না পড়ার ক্ষেত্রে একটা অন্যতম কারণ হতে পারে। শ্রাবণে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলে ইলিশের প্রাচুর্য বাড়বে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাগর-নদীতে চর-ডুবোচর জেগেছে। নদ-নদীর পানি হ্রাস পাচ্ছে। ফলে মাছের জীববৈচিত্র বিপর্যয়ের সম্মুখীন। বিশেষ করে প্রজননের সময় মিঠা পানিতে চলে আসে ইলিশ। কিন্তু ডুবোচরের পাশাপাশি বিভিন্ন পদার্থের কারণে নদীর পানিও দূষিত হচ্ছে। এ কারণে প্রজননের সময় মিঠা পানিতে আসতে না পারায় ইলিশের প্রজননও হ্রাস পাচ্ছে। কমে যাচ্ছে ইলিশের সংখ্যা।

জেলেরা জানান, তারা নদীতে ইলিশ ধরতে জাল ফেলছেন। নৌকা নিয়ে জেলেরা ইলিশের সন্ধানে হন্যে হয়ে ঘুরছেন। কিন্তু ইলিশের দেখা মিলছে না।

মহম্মদপুর সদরের জেলে অচিন্ত রাজবংশী জানান, জ্যৈষ্ঠ থেকে আশ্বিন পর্যন্ত ইলিশের ভরা মৌসুম। কিন্তু মৌসুমের প্রায় দুই মাস পার হলেও ইলিশ না পাওয়ায় তারা দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন।

পদ্মার শাখা মধুমতি। গড়াই নাম নিয়ে ফরিদপুরে সীমানা দিয়ে মধুমতি নামে মাগুরায় প্রবেশ করে। মধুমতির ইলিশের সুখ্যাতি ছিল একসময় দেশ জোড়া।

গত কয়েক বছরে নদীতে মাত্রাতিরিক্ত ইলিশ কমে গেছে। ভরা মৌসুমে মধুমতিতে ইলিশের দেখা মিলছে না। দিন রাত পরিশ্রম করে জেলেরা ফিরছেন শূন্য হাতে। জেলেরা এনজিও থেকে ঋণ অথবা মহাজনের কাছ থেকে দাদনের টাকা নিয়ে নতুন করে নৌকা ও জাল সংগ্রহ করেছেন। মাছ না পাওয়ায় তারা ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না।

ধুপুড়িয়া গ্রামের জেলে পরিতোষ বলেন, সারা রাত নদীতে জাল ফেলে মাত্র ৩ টা ইলিশ পেয়েছি। এতে তাদের পুঁজি বাঁচানোই দায়।

মহম্মদপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফেরদৌসী আক্তার বলেন, নদী গর্ভে পলি জমে নদীর গভীরতা ও নাব্যতা কমে যাওয়ায় মধুমতিতে ইলিশ ধরা পড়ছে না। মূলত পদ্মায় কমে যাওয়ায় শাখা নদীতেও ইলিশ কমে গেছে।

নগর কন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com