বুধবার, ০৮ Jul ২০২৬, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণে নিহত কলেজছাত্র রিফাত তার মাকে প্রায়ই বলত– বাবা রিকশা চালাতে দেখলে আমার অনেক কষ্ট হয় মা।
সেই কষ্টের উপার্জন দিয়ে আমার লেখাপড়ার খরচ চলে। আমাদের পুরো সংসার চলে। আমি মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করছি, আর নামাজ পড়ে আল্লাহকে বলি– আমাকে দ্রুত একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দিন।
রিফাতের এসব কথা মনে করে চিৎকার দিয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন তার মা রিনা বেগম।
রোববার সকালে ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা এলাকায় তাদের ভাড়া নেয়া বাসায় গিয়ে দেখা যায় সন্তান হারানো মায়ের এ আর্তনাদ।
রিনা বেগম বলেন, আমরা নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা। শহরের ব্যাংক কলোনি এলাকায় আমাদের বাড়িঘর সবই ছিল। এখন পশ্চিম তল্লা এলাকায় রোকসানার বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করি।
রিফাতের বাবা আনোয়ার হোসেন রিকশা চালিয়ে উপার্জন করেন। আমাদের ২ ছেলে ও ২ মেয়ে। এই চার সন্তানের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। রিফাতের ছোট আরেক ভাই আছে।
তিনি বলেন, রিফাত নারায়ণগঞ্জ কলেজে এইচএসসির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। কিছু দিন পর ওর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য সারাদিনই ঘরে বসে পড়ত। আজান দিলে বাসায় ওজু করে মসজিদে যেত নামাজ পড়তে। নামাজে যাওয়ার সময় হলে বলত– মা দেরি করোনা নামাজটা পড়ে নাও।
শুক্রবার রাতেও শেষবারের মতো রিফাত বলে গিয়েছিল– মা নামাজটা পড়ে নাও আমি এসে ভাত খাব। কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলে দীর্ঘসময় জ্ঞান হারিয়ে ছিলেন রিনা বেগম।
জ্ঞান ফেরার পর আবারও বলেন, বাবায় (রিফাত) বলত– মাগো বাবার জন্য কষ্ট হয়, বাবা আমার জন্য অনেক পরিশ্রম করে। অনেক রাত পর্যন্ত রিকশা চালায়।
আমি মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করছি আর নামাজ পড়ে আল্লাহকে বলি– আমাকে দ্রুত একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিন। একটা চাকরি পেলে বাবাকে আর রিকশা চালাতে দেব না। আল্লাহ একদিন আমাদের সুদিন দেবে। মা আমার জন্য দোয়া করো।
রিফাতের মায়ের কথাগুলো শুনে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি প্রতিবেশীরাও। মর্মান্তিক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রিফাতের লাশ স্থানীয় কবরস্থানে শনিবার রাতেই দাফন করা হয়েছে। রিফাতের বাবা কোনো কথা বলতে পারছে না ছেলের শোকে। একটু পর পর হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে রিফাতকে ডাকেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা এলাকায় বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৭ জনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
এদের মধ্যে এ পর্যন্ত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। বিস্ফোরণে মসজিদের ছয়টি এসি পুড়ে গেছে। জানালার কাঁচ উড়ে গেছে।
নগর কন্ঠ.কম/এআর