বুধবার, ০৮ Jul ২০২৬, ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন

মুক্ত জলাশয় এখন প্রভাবশালীদের দখলে

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : নেত্রকোনার মদন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের মুক্ত জলাশয় পিংলা বিল প্রভাবশালীরা দখলে নিয়ে বাঁধ নির্মাণ করায় নৌ চলাচল ব্যাহতসহ সাধারণ লোকজন মাছ ধরা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ। কর্তৃপক্ষের বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে এলাকাবাসী। এ বিলের মাছ ধরে এলাকার হতদরিদ্র লোকজন জীবিকা নির্বাহসহ অনেকেই আমিষের চাহিদা পূরণ করতেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের পিংলা বিলে ৮৫৭ নম্বর দাগে ১০ একর ৬৪ শতাংশ খাস জমিসহ প্রায় ১ শ একর জমি রয়েছে। একসময় এ বিলে মাছ ধরে এলাকার শতাধিক হতদরিদ্র লোক জীবিকা নির্বাহ করত। গত কয়েক বছর ধরে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল উক্ত বিলের খাস জমিতে মাছ ধরার ডোবা তৈরি করে তাদের দখলে নিয়ে যাওয়ায় সাধারণ লোকজন মাছ ধরা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

প্রভাবশালীরা গত বছর উক্ত খাস জমি দখল করে বেআইনিভাবে এসকাভেটর দিয়ে নতুন আরো ডোবা তৈরির প্রস্তুতি নিলে উপজেলা প্রশাসন সরেজমিন পরিদর্শণ করে মেশিনটি জব্দ করে চাবি নিয়ে যায়। পরে এ প্রভাবশালী মহলটি সুকৌশলে রাতের আঁধারে এসকাভেটরটি অন্যত্র নিয়ে গেলে অদৃশ্য কারণে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। এ বছর আবারো মুক্ত জলাশয়টি ৩ লাখ ২০ হাজার টাকায় পত্তন দিয়েছে প্রভাবশালী মহলটি। পত্তনকারী বিলের মাছ ধরার জন্য বিলের মূল প্রবেশ পথ ব্রিজের মুখে বানা ও জাল ফেলে বাঁধ দেওয়ায় নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, বিলের মূল প্রবেশপথ ব্রিজের নিচে বাঁশের বানা ও জাল দিয়ে বাঁধ দিয়ে রেখেছে। এতে কোনো নৌকা বিলের ভেতরে প্রবেশ করতে পারছে না। সাধারণ লোকজন ঠেলা জালি ও টাক জাল দিয়েও মাছ ধরা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ সময় বাঁধের পাশে উপস্থিত স্থানীয় রহিছ উদ্দিন, মুজিবুর রহমান, রহিছ খান, বাবুল ও আশরাফ আলী তাং জানান, একসময় এ বিলে মাছ ধরে ফতেপুর ৫টি পাড়ার অন্তত ২ হাজার সাধারণ মানুষ জীবিকা নির্বাহসহ আমিষের চাহিদা পূরণ করত। কিন্তু এখন ঠেলাজালি ও টাকজাল দিয়েও মাছ ধরার সুযোগ নেই। প্রবেশ পথে বানা ও জাল দিয়ে বাঁধ দেওয়ায় আমরা নৌকা দিয়ে মালামাল নিয়ে বাড়িতে যেতে পারি না। প্রভাবশালী মহলটি খাস জমি দখল করে পত্তন দেওয়ায় এখন মাছ ধরতে পারি না। আমরা এর প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।

পিংলা বিলের বাঁধ নির্মাণকারী জহিরুল ইসলাম জানান, আমি পিংলা বিলের ২৩ ডোবার মালিকদের নিকট থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে এক বছরের জন্য পত্তন নিয়েছি। মাছ ধরার সুবিধার্থে ব্রিজের নিচে বাঁধ দিয়েছি।

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম জানান, পিংলা বিলের ব্যাপারে এলাকাবাসী ইউএনও মহোদয়ের নিকট একটি অভিযোগ দিয়েছে। গত বছর এ বিলের ১০ একর ৬৪ শতাংশ খাস জমিতে মাছ ধরার ডোবা তৈরি করার সময় প্রশাসনের নির্দেশে আমি একটি এসকাভেটর জব্দ করি। কিন্তু সুচতুর চক্রটি পরিকল্পিতভাবে সেটি রাতের আঁধারে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আমার কিছুই করার ছিল না।

ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান, এ বিলের খাস জমিতে কিছু লোকজন ডোবা তৈরি করে পত্তন দিয়েছে। তবে আমি চাই এ বিলটি উন্মুক্ত জলাশয় হিসেবে থাকুক। যেন সাধারণ মানুষ সারা বছর মাছ ধরে খেতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ জানান, ফতেপুর ইউনিয়নের পিংলা বিলের খাস জমি উদ্ধার করে প্রয়োজনে খাসকালেকশন দেওয়া হবে।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com