মঙ্গলবার, ০৭ Jul ২০২৬, ০৮:১২ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : মছুর আলী। মা, স্ত্রী, চার সন্তানসহ ৯ জনের সংসার। মছুর আলীর আয় দিয়ে সংসার চলতো। কিন্তু একটা দুর্ঘটনায় সচল সংসারের চাকা এখন অচল। এক হাত হারিয়ে থমকে যাওয়া জীবনের সঙ্গে লড়ছেন মছুর আলী।
মছুর আলীর বাড়ি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা সীমান্তবর্তী লাঠিটিলা এলাকার ডুমাবাড়ি গ্রামে। তিন বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর পুরো দায়িত্ব তুলে নেন নিজের কাঁধে। শুরু হয় তার নতুন যাত্রা। কিন্তু গত ২০ আগস্ট দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। প্রতিদিনের মতো ওই দিন ধান মাড়ানোর মেশিন নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এক বাড়িতে ধান মাড়ানোর সময় হঠাৎ তার ডান হাতটি মেশিনের ভেতর চলে যায়। সঙ্গে সঙ্গে হাতের কনুই পর্যন্ত ভেঙে যায়। স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সিলেট ওসমানি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার ৫ দিন পর মছুরের ডান হাতের কনুই পর্যন্ত কেটে ফেলা হয়। কয়েকদিন চিকিৎসা করিয়ে টাকার অভাবে বাড়িতে নিয়ে আসেন তার পরিবার।
প্রতিবেশীরা জানান, মছুর আলী পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ধান মাড়ানোর মেশিনটা তার মামাতো ভাই কিনে দিয়েছিলেন। মেশিন চালিয়ে যা আয় হতো তা দিয়ে কোনোমতে তার সংসার চলতো। ধান মাড়াইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য কাজও করতেন তিনি। দুর্ঘটনার পর থেকে মছুরের আয় বন্ধ। এখন পরিবারটা খুব বিপদে আছে।
মছুর আলী বলেন, ‘হাতটা কেটে ফেলার পর থেকে কোনো কাজ করতে পারি না। পরিবার নিয়ে খুব বিপদে আছি। ২ লাখ টাকা হলে একটা কৃত্রিম হাত লাগাতে পারতাম। কিন্তু এতো টাকা তো আমাদের নেই। কেয়ার ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠন আমাকে ২৫ হাজার টাকা দিয়েছে। কেউ যদি আরেকটু সাহায্য করতো আমি কৃত্রিম হাতটা লাগাতে পারতাম।’
এ বিষয়ে জুড়ী উপজেলার ভইস চেয়ারম্যান রিংকু রঞ্জন দাশ রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। দুই-একদিনের মধ্যে মছুরের বাড়িতে যাবো। আমি নিজে এবং উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো। সমাজের বিত্তবানরা যদি একটু এগিয়ে আসেন তাহলে সে আবার আগের মতো কাজ করতে পারবে। একটা পরিবার বেঁচে যাবে।’
নগরকন্ঠ.কম/এআর