মঙ্গলবার, ০৭ Jul ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ন

নিরাপদ ও বেশি সুদ, ফের সঞ্চয়পত্রে ঝুঁকছে মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : বিকল্প অন্য যেকোনো উৎসের তুলনায় সুদহার বেশি হওয়ায় নানা কড়াকড়ি সত্ত্বেও সঞ্চয়পত্রে ঝুঁকছেন সাধারণ মানুষ। এতে একদিকে যেমন বিক্রি বাড়ছে সঞ্চয়পত্রের, অন্যদিকে সরকারও পাচ্ছে প্রয়োজনীয় ঋণ। সর্বশেষ জুলাই মাসে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে তিন হাজার ৭০৫ কোটি টাকার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৭.৫০ শতাংশ বেশি। আগস্ট মাসেও সঞ্চয়পত্রে বড় ধরনের বিনিয়োগ এসেছে বলে জানা যায়।

অর্থনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ব্যাংকে টাকা রাখলে এখন সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদ পাচ্ছেন গ্রাহকরা। আবার করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা চলছে। অন্যদিকে সঞ্চয়পত্রে সুদহার বেশি, ১২ শতাংশের কাছাকাছি। এ ছাড়া সরকারের গ্যারান্টি থাকায় সবচেয়ে নিরাপদও। তাই বিভিন্ন শর্ত পরিপালন করেও সঞ্চয়পত্রে ঝুঁঁকছেন মানুষ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ব্যাংকে টাকা রাখলে এখন কম সুদ মিলছে। কিন্তু সঞ্চয়পত্রের সুদ আগের জায়গায়ই রয়েছে। ফলে মানুষ সুদ বেশি পাওয়ার আশায় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছেন। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ নিরাপদ বলে গণ্য হয়। কিন্তু ব্যাংকে টাকা রাখার ক্ষেত্রে এই আস্থা মানুষ পান না। বিশেষ করে কিছু ব্যাংকের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। যেগুলোতে লোকজন নতুন করে সঞ্চয় রাখছে না। রেমিট্যান্সের একটা অংশও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ হচ্ছে। এ ছাড়া করোনার কারণে বাসাবাড়ি থেকে কম বের হওয়ায় অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমেছে অনেকেরই। এই শ্রেণির মানুষের টাকা সঞ্চয়পত্রে আসতে পারে।

কয়েক বছর ধরেই সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়ছিল। তবে লাগাম টানতে গত বছরের মাঝামাঝি সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে বেশ কিছু শর্ত ও বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। এতে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমতে থাকে। এরপর গত মার্চ থেকে দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর স্থবির হতে শুরু করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। টানা ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটিতে উৎপাদন ও বিনিয়োগের চাকা ছিল প্রায় বন্ধ। এতে অনেকেরই আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মে পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র বিক্রি তলানিতে নেমে যায়। তবে জুনে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে কিছুটা গতি আসে। জুনে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৪১৭ কোটি টাকা। জুনের পর চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রি আরো বেড়েছে। এই মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৭০৫ কোটি ২৪ লাখ টাকায়, গত অর্থবছরের জুলাইয়ে যা ছিল দুই হাজার ২১২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, এখন ব্যাংকগুলোর আমানতের সুদহার ৬ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। আমানতের সুদহারের চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশি। যদি মূল্যস্ফীতির চেয়ে আমানতের সুদ কম হয়, তাহলে ব্যাংকে আমানত রাখা মানে টাকা কমে যাওয়া। এমন অবস্থা চলতে থাকলে মানুষ এখন ব্যাংকে আমানত রাখা তো কমিয়ে দিচ্ছেই, ভবিষ্যতে আরো কমিয়ে দেবে। তারা বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজবে এটাই স্বাভাবিক।

জানা গেছে, বর্তমানে পাঁচ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর উেস কর ৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সঞ্চয়পত্রের সব লেনদেন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। দুর্নীতি কিংবা অপ্রদর্শিত আয়ে সঞ্চয়পত্র কেনা বন্ধ করতে ক্রেতার তথ্য একটি ডাটাবেইসে সংরক্ষণের লক্ষ্যে অভিন্ন সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্রে বড় বিনিয়োগে কঠোর হয়েছে সরকার।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com