মঙ্গলবার, ০৭ Jul ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ন

মোংলা বন্দরের বিদেশি জাহাজে সক্রিয় চোরচক্র

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : মোংলা বন্দরে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বিদেশি জাহাজকেন্দ্রিক চোরচক্র। এই চক্রের সদস্যরা বন্দরে আসা বিদেশি জাহাজ থেকে জ্বালানি তেল, ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ, সিগারেট, সোলার প্যানেল, গ্যাসের চুলাসহ বিভিন্ন মূল্যবান পণ্য চুরি করে অন্যত্র বিক্রি করেন।

কাস্টমস, কোস্ট গার্ড, বন্দরপ্রহরীসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিনের পর দিন এ কাজ করছেন তাঁরা। মাঝেমধ্যে চোরাই পণ্যসহ ‘চুনোপুঁটিরা’ ধরা পড়লেও ‘রাঘব বোয়াল’রা ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায় বলে অভিযোগ। ফলে সরকার যেমন মোটা অঙ্কের টাকার শুল্ক আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তেমনি বৈধ ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রিজেকশন গলি, বাইদ্যাপাড়া, কানাইনগর, কুমারখালী, কলেজ মোড়, জয় বাংলা, মাদরাসা মোড়, মালগাজি, রাতারাতি কলোনি, দিগরাজ, বাজুয়া, লাউডোব, চিলা বাজার, বানী শান্তা বাজার, মাছমারা, নারকেলতলা, জয়মনীর ঘোলসহ বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় বিদেশি জাহাজকেন্দ্রিক চোরচক্র গড়ে উঠেছে। এই চক্রের সদস্যরা বিদেশি জাহাজের নাবিকদের সঙ্গে আঁতাত করে বিভিন্ন পণ্য চুরির পর ট্রলার বা নৌকায় করে নৌপথে এনে মোংলাসহ আশপাশের এলাকায় বিক্রি করেন। এর মধ্যে গত রবিবার ভোরে চক্রটির সদস্যরা বিদেশি জাহাজ থেকে ৩৯টি ড্রামবোঝাই এক হাজার ৯৫০ লিটার জ্বালানি তেল, ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ, সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, গ্যাসের চুলা, সিলিন্ডারসহ কয়েক লাখ টাকার বিভিন্ন মূল্যবান পণ্য চুরি করেন। গোপনে খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড মোংলা (পশ্চিম) জোনের সদস্যরা পশুর নদের জয়মনি এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ চোরাই পণ্যসহ তিন চোরাচালানিকে আটক করতে সক্ষম হন। সেদিন রাতেই তাঁদের মোংলা থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আটককৃতরা হলেন চাঁদপাই ইউনিয়নের কানাইনগর এলাকার নিয়ামুল খাঁ, পৌরসভা ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জয় বাংলা সড়কের রফিকুল ইসলাম ও একই এলাকার হারুন হাওলাদার। পরদিন সোমবার ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। গত ১৭ আগস্ট রাতে ট্রলারে করে পাচারের সময় পশুর নদের হারবাড়িয়া জোংড়ার খাল এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ৫০ ব্যারেল চোরাই ডিজেল জব্দ করা হয়। এর আগে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরচক্র তেলবোঝাই ট্রলারটি নদীতে ডুবিয়ে পালিয়ে যায়। পরে জব্দ করা তেল মোংলা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

কোস্ট গার্ডের পশ্চিম (মোংলা) জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লে. কমান্ডার শাহরিয়ার পারভেজ জানান, কোস্ট গার্ড তাদের এখতিয়ারভুক্ত এলাকাগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, মৎস্য সম্পদ রক্ষা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি চোরাচালানেও জিরো টলারেন্স নীতি মেনে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। তবে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা লে. কমান্ডার নুর মুহাম্মদ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, ‘বন্দরের চ্যানেল তথা নৌপথের দায়িত্ব কোস্ট গার্ডের। আর বন্দরের স্থলভাগের দায়িত্ব পালন করছেন বন্দরের নিরাপত্তারক্ষীরা। এ ক্ষেত্রে বন্দরের সঙ্গে সমন্ব্বয় করে কোস্ট গার্ড তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে চলেছে।’

মোংলা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধূরী জানান, চোরাচালান বন্ধে তাঁরাসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর আছেন।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com