মঙ্গলবার, ০৭ Jul ২০২৬, ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন

দুর্গাপুরে সোমেশ্বরীর তীব্র ভাঙন, বন‌্যায় ডুবছে আমন ফসল

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী ও নেতাই নদীতে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ফসলী জমি,বসতবাড়ি। তৃতীয় ধাপে বন্যা হওয়ায় হুমকির মুখে রয়েছে মসজিদ, মন্দির, বিদ্যালয়সহ নানা স্থাপনা। এছাড়াও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে আমন ফসল।

ভাঙন রোধে স্থানীয়রা নিজস্ব অর্থায়নে বালুর বস্তা ফেলে বাঁধ দেওয়ার চেষ্ঠা চালিয়ে গেলেও সরকারিভাবে এখনও কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি।

সোমেশ্বরী নদীর ভাঙনে কুল্লাগড়া ইউনিয়নের বড়ইকান্দি, ভূলিপাড়া, কামারখালী, রানীখং, বিজয়পুর, পৌরসভার কুল্লাগড়া, শিবগঞ্জ বাজার, ডাকুমারা, দক্ষিণ ভবানীপুরসহ কয়েকটি গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

অপরদিকে নেতাই নদীর ভাঙনে গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের বন্দউষান গ্রামের অসংখ্য বসতিসহ বন্দউষান বাজার, মাদ্রাসা, মসজিদ, কবরস্থান নদীতে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও টানা বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাকৈরগড়া ইউনিয়নের রামবাড়ী লক্ষীপুরসহ বেশ কিছু গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে জীবনযাপন করছে।

কামারখালীর স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক বলেন, ‘নদীর দুই পাড়ে স্থায়ী বেরিবাঁধ নির্মাণের দাবিতে বেশ কয়েকবার মানববন্ধন করেছি, প্রশাসনের ঊর্দ্ধতন মহল থেকে সরেজমিনে তদন্তও করে গেছেন বেশ কয়েকবার। এখন পর্যন্ত কোন স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।’

বড়ইকান্দি গ্রামের বাসিন্দা উজ্জল মিয়া জানান, ‘প্রতিবছরই কিছু না কিছু ভাঙন দেখা দেয়। এ অঞ্চলের জনপ্রতিনিধিসহ সরকারি লোকদের কাছে বার বার দাবি করলেও কোন ব্যবস্থা হচ্ছেনা। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি, জানাই যাতে বাঁধেরর ব্যবস্থা করা হয়।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নেত্রকোনা জেলার উপ-প্রকৌশলী মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘অল্প দিনের ব্যবধানে এই এলাকায় কয়েকবার বন্যা হওয়ায় পানির চাপে বেশ কিছু এলাকা ভেঙ্গে গেছে। এরই মধ‌্যে এ এলাকায় স্থায়ীবাঁধ নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনাও পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা খানম বলেন, ‘সোমেশ্বরী নদীর ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসক স্যারসহ পানি উন্নয়ন রোর্ডের ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকবার এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ নিয়ে স্থানীয় বাঁধ নির্মাণের বড় প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বৃষ্টিপাত কমলেই বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হবে।’

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com