চাল-ডালের মূল‌্যবৃদ্ধি: পরস্পরকে দুষছেন আড়তদার-মিল মালিকেরা

চাল-ডালের মূল‌্যবৃদ্ধি: পরস্পরকে দুষছেন আড়তদার-মিল মালিকেরা

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : করোনা মহামারিতে চাকরি হারিয়ে, রুটি-রুজির অনিশ্চয়তার মধ‌্যে মানুষ নিঃস্ব হয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহর থেকে মফস্বলে আসছে। আর এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ময়মনসিংহের বাজারগুলোতে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে মানুষ। লাগামহীন দামবৃদ্ধির জন‌্য আড়তদার ও মিলমালিকরা পরষ্পরকের দোষ দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ অতিবৃষ্টি ও বন‌্যাকে দায়ী করছেন।

ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হওয়ার খবর শুনেই একদিনে ময়মনসিংহে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়। অসহনীয় উত্তাপ বইছে চাল, ডিম ও সবজির দামে। আদা-রসুনের দাম কয়েক মাস ধরেই বাড়তির দিকে। ফলে খেটে খাওয়া নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে। কম দামে পণ্য ক্রয় করতে ভিড় বাড়ছে টিসিবির লাইনে।
মেছুয়া বাজার, নতুন বাজার, মিন্টু কলেজ রেল ক্রসিং কাচাঁ বাজার সহ নগরীর বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা গেছে- বাজরে আলু কেজি ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকা, করলা ৯০-১০০ টাকা, টমেটো ১০০-১২০ টাকা, মূলা ৬০ টাকা, শসা ও গাজর ৮০ টাকা, পটল, ধুন্দল, ঝিঙ্গা, কাঁকরোল ও চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৮০টাকা, মিষ্টি কুমড়ার পিস ২৫-৩০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কুমড়ার পিস ৫০ টাকা, কচুর-লতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ৩০-৪০ টাকা, লেবু প্রতি হালি ২৫-৩০ টাকা দরে। কাঁচা মরিচের কেজি এখন ২৪০-২৫০ টাকা। প্রতি কেজি পুঁই শাক, লাল শাক ও পালং শাক ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, ও ডাটা হালি ৩০-৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। দেশি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা হালি ও ফার্মের ডিম ৩৬ টাকা হালি।

এদিকে, বাজারে মোটা চালের মজুদ নেই, মাঝারি মানের চাল পাইজাম/লতা ৪৮ থেকে ৫৪ টাকা ও সরু চাল নাজিরশাইল/মিনিকেট ৫৫ থেকে ৬৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

বাজরে সবজি কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতার সাথে কথা হয়। তারা জানান, ‘বাজারে সবজির দাম এত বেশি যে, ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। তারপরও অল্প করে কিনে কোনো রকমে দিন পার করছি।’

চালের বাজারে এক ক্রেতা বলেন, ‘আমরা নিন্ম আয়ের মানুষ সারা বছর চাল কিনে খাই। হঠাৎ করে চালের দাম এত বেড়েছে । কি আর করা, বেঁচে থাকার তাগিদে কষ্ট হলেও কিনতে হচ্ছে।

তবে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছে জানতে চাইলে তারা নিজেদের মত করে পণ্যের দাম বৃদ্ধির যুক্তি দেখান। সবজি বিক্রেতা এমদাদ হোসেন জানান, ‘অতি বৃষ্টি ও বন্যার কারণে বাজারে সবজির আমদানি খুবই কম। বাড়তি দাম দিয়ে সবজি কিনে আনার কারণে আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ’

কিন্তু কৃষকরা বলছেন, আগের চেয়ে পাইকারদের কাছ থেকে ফসলের দাম বেশি পেলেও বাজারে যে মূল্যের কথা শুনতে পাচ্ছেন, তার অর্ধেক দামে তারা সবজি বিক্রয় করেন।

ময়মনসিংহ চালের আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিধুভূষন সাহা রায় জানান, ‘সরকার নির্ধারিত ২২৫০ টাকা মূল্যে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও আমরা তা পাচ্ছি না। আমাদের কিনতে হচ্ছে ২৪০০ থেকে ২৫০০ টাকা। মিল মালিক ও ধানের আড়ৎদার মিলে ধান-চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা বর্তমান ধানের বাজার মূল্য অনুযায়ী চালের দাম রাখছে। যেসব মিলার ও ধান আড়ৎদাররা আগে ধান কিনে স্টক করেছে, তারাও একই দামে বিক্রি করছে। ’

ময়মনসিংহের জমজম রাইস মিলের মালিক শফিকুল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘বাজারে মোটা ধানের দাম ১৩০০ টাকা ও চিকন ধানের দাম ১৫০০ মণ। প্রতি কেজি চাল উৎপাদন করতে খরচ হয় প্রায় ৫০ টাকা। তাছাড়া বাজারে ধানের সরবরাহ অনেক কমে গেছে। বাজারে ধানের আমদানি কমে যাওয়ায় আমাদের মিল চালানোই অসম্ভব হয়ে পড়ছে।’

ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স অ‌্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সহ-সভাপতি শংকর সাহা বলেন, ‘শুধু ময়মনসিংহে নয় সারা দেশে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে কারো কোনো হাত নেই। কারণ অতিবৃষ্টি ও বন্যার ফলে কৃষকের সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে সবজির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া ধানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চালের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, চাল ও পেঁয়াজ যেন বিদেশ থেকে আমদানি করে, তা না হলে বাজারে দাম কমবে না।

বাজার নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। কোন সিন্ডিকেটের হাত আছে কি না, তা যাচাই করে দেখা হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।’

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন