সোমবার, ০৬ Jul ২০২৬, ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : সাভারের আশুলিয়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর বাড়ির পাশেই একটি গলিতে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীর লাশ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রতিবেশী মুদির দোকানদার রফিকুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী দুই শিশুর ঝগড়ার তুচ্ছ ঘটনার জেরে আসিফকে হত্যা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে আশুলিয়ার পূর্ব কলতাসূতি এলাকায় ভাড়া বাসার পাশে একটি গলি থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মোহাম্মদ আসিফ (৮) দি হোম ক্যাডেট স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে তার পরিবারের সঙ্গে আশুলিয়ার পূর্ব কলতাসূতি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতো। বাবা জুয়েল খান পরিবহন চালক ও মা গৃহিনী।
নিহতের বাবা জুয়েল খান জানান, ১১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার স্ত্রী বাড়ির পাশে দোকানে যান। দশ মিনিট পর মায়ের পিছনে বাইরে যায় ছেলে আসিফ। পথে অপরিচিত দুই যুবক বাড়ি থেকে ৬০০ গজ দূরে রাস্তায় তার ছেলেকে মারধর করে ও পরে ধরে নিয়ে যায়। ঘটনাটি দেখেন পাশের বাসার এক ভাড়াটিয়া নারী, যা আসিফের বাবা-মা পরে জানতে পারেন।
পরে ওই দিন অনেক খোঁজ করেও তারা আসিফের সন্ধান পাননি। ১১ অক্টোবর রাতে আশুলিয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। আজ সকালে তার বাড়ির পাশের একটি গলিতে ছেলে আসিফের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা।
তিনি অভিযোগ করেন, এক মাস আগে ছেলে আসিফ পাশের বাসার রফিকুল নামে মুদি দোকানির ছেলের সঙ্গে খেলতে যায়। সেখানে দুই শিশু গন্ডগোল করলে ক্ষোভ থেকে যায় রফিকুলের। এরই জেরে রফিকুল তার ছেলেকে অপহরণ করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ তার। এছাড়া থানায় জিডি করলেও পুলিশ তার ছেলেকে খুঁজতে কোন তৎপরতা দেখায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আশুলিয়া থানার পরিদশর্ক (তদন্ত) জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ওই শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ তার বাড়ির পাশে ফেলে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এঘটনায় পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিবেশী রফিকুল নামে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
তবে শিশু নিখোঁজের কথা জানানোর পরও পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়নি বলে নিহতের পরিবারের এমন অভিযোগের উত্তরে তিনি জানান, নিখোঁজের পর এলাকায় তার পরিবার মাইকিং করেছে। এছাড়া পুলিশ সার্বক্ষণিক খোঁজখবরও রেখেছিল।
নগরকন্ঠ.কম/এআর