সোমবার, ০৬ Jul ২০২৬, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন

রাস্তা নির্মাণে খুঁটি সরানো নিয়ে রশি টানাটানি সরকারের ২ দপ্তরের

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : গোপালগঞ্জে নির্মাণাধীন তিনটি জেলা সড়কের বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানো নিয়ে সড়ক ও বিদ্যুত বিভাগের মধ্যে চলছে রশি টানাটানি। এক বিভাগ আরেক বিভাগের ওপর দায় চাপিয়ে দিচ্ছে। ফলে খুঁটি রেখেই চলছে সড়ক উন্নয়নের কাজ। এতে বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকালে সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিজয়পাশা-তালাবাজার এবং কাশিয়ানী উপজেলার ফুকরা লঞ্চঘাট-রামদিয়া বাজার ও গেড়াখোলা-জয়নগর তিনটি জেলা সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু করেছে সড়ক বিভাগ। ইতিমধ্যে এসব সড়কের নির্মাণ কাজ ৭০ ভাগ শেষ হয়েছে।

এসব সড়কে রয়েছে পল্লী বিদ্যুতের অসংখ্য খুঁটি। কিন্তু পল্লী বিদ্যুত সমিতিকে খুঁটি সরানোর জন্য সড়ক বিভাগ চিঠি দিলেও এখন পর্যন্ত এসব খুঁটি সরানোর হয়নি। আর এসব সড়কের মাঝে খুঁটি রেখেই ফুকরা লঞ্চঘাট থেকে রামদিয়া বাজার সড়কের বেশিরভাগ অংশ কার্পেটিং করা হয়েছে।

সড়কের মধ্যে এসব বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকায় যানবাহন চলাচলে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। খুঁটি সরিয়ে দ্রুত সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবি করছেন তারা।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং পল্লী বিদদ্যুত সমিতি সূত্রে জানাগেছে, মহাসড়ক, আঞ্চলিক মহাসড়ক, জেলা সড়ক ও গ্রামীন সড়কের ঢালে খুঁটি পুঁতে বিদ্যুত লাইন নির্মাণ করে থাকে পল্লী বিদ্যুত সমিতি। এক্ষেত্রে তারা সড়কের মালিকানা কর্তৃপক্ষের কোন অনুমতি বা কারিগরি সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন মনে করে না।

ওই সকল সড়ক প্রশস্ত করার সময়ে খুঁটি সরানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে পল্লী বিদ্যুত সমিতিকে চিঠি দিতে হয়। তারা খুঁটি সরানোর জন্য প্রাক্কলন তৈরি করে রাস্তার মালিকানা কর্তৃপক্ষকে দেন। পরে খুঁটি সরানোর বিল দেওয়ার পরই কেবল পল্লী বিদ্যুত সমিতি তাদের বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানোর উদ্যোগ নেয়।

কাশিয়ানী উপজেলার ফুকরা গ্রামে দুলাল শেখ, সুলতানশাহী গ্রামের আলিম শেখসহ স্থানীয়রা বলেন, ‘আমাদের এলাকার গ্রামীন সড়ক জেলা সড়কে উন্নীত করে সড়ক বিভাগ রাস্তার নির্মাণ কাজ করছে। এই রাস্তায় বিদ্যুত লাইনের অনেক খুঁটি রয়েছে। এসব না সরানোর কারণে রাস্তার কাজ যথাসময়ে হচ্ছে না। তাছাড়া রাস্তার মাঝে খুঁটি থাকায় এই এলাকায় যানবাহন চলাচলে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। রাস্তার বিভিন্ন মোড়ে রাস্তার মাঝখানে খুঁটি থাকায় যে কোন সময়ে দুর্ঘটনা ঘটে প্রানহাণিসহ বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। ’

গোপালগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের রাস্তায় বছরের বিভিন্ন সময়ে আমাদের অনুমতি বা কারিগরি সহায়তা ছাড়াই যত্রতত্র খুঁটি স্থাপন করে বিদ্যুত বিভাগ। কিন্তু আমরা যখন রাস্তা প্রশস্ত বা সংস্কার করতে যাই, তখন বার বার চিঠি লেখার পরেও পল্লী বিদ্যুত তাদের খুঁটি অপসারণ করে না। ফলে আমাদের খুঁটি রেখেই সড়কের কাজ করতে হয়।’

গোপালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মহাসড়ক, আঞ্চলিক মহাসড়ক, জেলা সড়ক ও গ্রামীন সড়কের ঢালে পিলার পুঁতে বিদ্যুত লাইন সম্প্রসারণ করে থাকি। কিন্তু, নিয়মানুযায়ী আমাদেরকে খুঁটি সরানোর বিল পরিশোধ করলেই কেবল মাত্র আমরা খুঁটি সরিয়ে থাকি। এর বাইরে আমাদের কিছুই করার থাকে না। ’

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com