একদিন হাসির দিন

একদিন হাসির দিন

0

নগরকন্ঠ ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : টান টান যে কোনো কিছুর টান সবচেয়ে বেশি দেখা যায় পাবলিক প্লেসে; বিশেষ করে চায়ের দোকানে। এখান থেকেই সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া ‘লাইভ’ পাওয়া যায়। তা সেটা লাইভ ক্রিকেট ম্যাচ হোক; কিংবা লাইভ কোনো নিউজ। পাবলিক প্লেসে বা চায়ের দোকানের ভিড় দেখে বোঝা যায়, উত্তেজনাপূর্ণ কিছু ঘটছে!

এ দেশে বেকারের সংখ্যা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক। অনেকের ধারণা, সরকারপ্রকাশিত বেকার সংখ্যার চেয়ে দেশে প্রকৃত বেকারের সংখ্যা আরও বেশি। অনেকের সেই ধারণাকেও উড়িয়ে দেয়া যায় না। সরকার হয়তো শিক্ষিত বেকারকে বুঝিয়েছে! কিন্তু ঘরের বাইরে পা ফেললেই চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ী বেকারদেরও দেখা মেলে! কীভাবে? সেই টপিক নিয়েই আলাপ চলছিল হারুন আর হরমুজের মাঝে।

হারুন বলল, ‘সব বুঝলাম! কিন্তু চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ী আবার বেকার হয় কীভাবে?’

হরমুজ বলল, ‘আরে তুই রাস্তায় বের হলে লক্ষ করবি, কোনো সাধারণ ঘটনা যেমন- কেউ রাস্তায় চলতে গিয়ে আছাড় খেয়েছে! সেটা দেখতেও অফিসগামী লোক দাঁড়িয়ে যায়! অথবা ফুটপাথের দোকানদার তার দোকান ফেলেই দেখতে চলে এল! এদের বেকার না বলে উপায় আছে? কাজ ফেলে অহেতুক অন্যের ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামানোও তো বেকারের লক্ষণ! সুতরাং বেকার সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে।’

চায়ের দোকানে বসা মুরুব্বিশ্রেণির কিছু লোকের এ দুই বেকারের ‘বেকার’ নিয়ে বেহুদা আলোচনা ভালো লাগছিল না। আবার কিছু বলাও যাচ্ছে না। কারণ চায়ের দোকান স্বাধীন জায়গা। এখানে যে কেউ তার যে কোনো মতামত প্রকাশ করতে পারেন। তাই আলোচনার বিষয় বদলাতে জনৈক মুরুব্বি বললেন, ‘আচ্ছা বাবা, ট্রাম্প না বাইডেন জিতব কইতে পার? কাল থেইকা সব জায়গায় একই সংখ্যা। কোনো নড়ন-চড়ন নাই!’

শুনে হরমুজ বলল, ‘আপনার কী মনে হয়? কে জিতবে?’

‘মনে তো হয় বাইডেন।’ হারুন ফিসফিস করে হরমুজকে বলল, ‘আমি নিশ্চিত, মুরুব্বি বাইডেনের ছবি দেখালে চিনতেই পারবে না! হুদাই হুজুগে বাইডেন বাইডেন করতাছে।’

‘কী যে বলিস না, কী সুন্দর উচ্চারণে বাইডেন কইল আর উনি চিনবেন না! দাঁড়া জিজ্ঞেস করি।’ হরমুজ মুরুব্বির দিকে ফিরল আবার, ‘জি আংকেল, আমারও মনে হয়, বাইডেন জিতবে। কিন্তু একটা ব্যাপার অবশ্য আমিও জানি না, বাইডেন কোন দলের- রিপাবলিকান না ডেমোক্র্যাট?’

‘অতশত জানি না বাপু, তয় এইডা জানি বাইডেন কিলিনটনের দলের লোক।।’ হারুন বলল, ‘শোন, এদেশের পাবলিক নাম শুনেও অনেক কিছু লাইক করে। যেমন- বাইডেন নামটা অতি আপন তাই এবার এ নাম চলছে বেশ। গতবার ট্রাম্প নামটা সবার কাছে মজার এবং কার্ড খেলার সূত্রে আপন মনে হয়েছিল!’

‘তোর ট্রাম্পের ব্যাখ্যা না হয় মেনে নিলাম, কিন্তু বাইডেন নামটা কেন আপন মনে হবে, সেটা খুলে বল।’

‘তেমন কিছু না। আমরা সাধারণত নেতা বা এলাকার বড় ভাইদের কাছে নানা আবদার নিয়ে গিয়ে বলি, ভাই এটা দেন-ওটা দেন! ওই যে চাওয়ার অভ্যাস সেখান থেকেই শুনতে প্রায় একই রকম শব্দ বাইডেন এদেশে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।’

হরমুজের যুক্তি শুনে হারুন চুপ মেরে গেল। কিন্তু চায়ের দোকানের বিশ্লেষণ থামেনি। নানা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ চলছে! চায়ের দোকানির ছোট্ট রঙিন টিভির স্ক্রলে ভাসছে, ট্রাম্প আর বাইডেনের স্কোর। যেহেতু এ সময় দেশে তেমন উত্তেজক খবরও নেই, যেটা নিয়ে পাবলিক পড়ে থাকবে- তাই আপাতত বিদেশি টপিক-ই সম্বল। ক’দিন সর্বত মঙ্গল রাঁধে আর কাঞ্চন জংঘা নিয়ে হালকা গরম হয়েছিল ফেসবুক। কিন্তু সেসব খুব দ্রুত থেমে গেছে। পাবলিকের কিছু একটা চাই আলোচনার জন্য। তা না হলে চায়ের দোকানে চায়ে চুমুক দিয়ে তৃপ্তি পাওয়া যায় না!

হারুন বলল, ‘আমেরিকার নির্বাচন না থাকলে এবার যে একটু আগাম শীত পড়ছে- এটাও আলোচনায় থাকতে পারত, কী বলিস?’

‘তা ঠিক। তবে শীত আসার আগেই শীতের সবজি বাজারে এসে যে তাপ ছড়াচ্ছে তাতে আগাম শীতের উত্তেজনা মিটে গেছে!’ এমন সময়ে চায়ের দোকানে এক লোক ঢুকে টিভির দিকে তাকিয়েই বিরক্ত হয়ে বলল, ‘চ্যানেল বদলা! দু’দিন ধরে ২৫৩ আর ২১৪ দেখতে দেখতে ক্লান্ত- আর ভালো লাগে না!’

চায়ের দোকানদার রিমোট হাতে চ্যানেল বদলাতেই দেখা গেল, এক নায়িকা নেচে নেচে গান গাইছে- আমি চাই থাকতে…। গান দেখে এবং শুনে হারুন মনে মনে ভাবল, সবাই থাকতে চায়! হোক তা আলোচনায়, কিংবা…!

নগরকন্ঠ.কম/এআর

অনুরূপ খবর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন