শিক্ষাবান্ধব ইউনেস্কোর ৭৫ বছর

শিক্ষাবান্ধব ইউনেস্কোর ৭৫ বছর

0

নিউজ ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : প্রায় এক বছর হতে চলেছে, অতিমারি কোভিড-১৯-এর কারণে বিশ্বব্যাপী জীবন-জীবিকা, শিক্ষা, মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরাসহ সবকিছু মারাত্মকভাবে ব্যাহত ও বিপর্যস্ত; ঠিক এ সময়ে জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা, শিক্ষার সব দিক নিয়ে কাজ করার ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত ইউনেস্কো আজ ৭৫ বছরে পদার্পণ করেছে।

প্রায় এক বছর হতে চলেছে, অতিমারি কোভিড-১৯-এর কারণে বিশ্বব্যাপী জীবন-জীবিকা, শিক্ষা, মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরাসহ সবকিছু মারাত্মকভাবে ব্যাহত ও বিপর্যস্ত; ঠিক এ সময়ে জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা, শিক্ষার সব দিক নিয়ে কাজ করার ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত ইউনেস্কো আজ ৭৫ বছরে পদার্পণ করেছে।

শান্তিতে অর্জন, উদ্ভাবনে ভূমিকা পালনে ইউনেস্কো যেমন অনন্য; একইসঙ্গে বিভিন্ন দুর্যোগে ও দুর্যোগ মোকাবেলায় ইউনেস্কো সহযাত্রী হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে।

বাংলাদেশ ১৯৭২ সালের ২৭ অক্টোবর ইউনেস্কোর সদস্যপদ লাভ করেছে। বাংলাদেশে ইউনেস্কো কার্যক্রমের তালিকা সুদীর্ঘ। বর্তমান বিশ্ব দুর্যোগকালীন ইউনেস্কো শিক্ষা সংকট উত্তরণে প্রথম থেকে ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে আসছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুল কীভাবে খোলা যাবে, তার আগে কী প্রস্তুতি নিতে হবে ইত্যাদি।

এ বছরের এপ্রিল মাসে ইউনেস্কো যে প্রস্তাবনা ও সুপারিশগুলো তুলে ধরেছে, তা এককথায় শুধু গবেষণাধর্মী নয়; বাস্তবসম্মতও বটে। ইউনেস্কোর মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে গেলে তিনটি জিনিস প্রথমে বিবেচনায় নিতে হবে: ১. প্রচলিত ব্যবস্থায় সহায়ক জনসংখ্যা, অবকাঠামোগত সম্পদ ও সক্ষমতা নির্ণয়।

২. শিক্ষাকার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। ৩. প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি, মূল্যায়ন এবং তা ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবেলায় কতটা সক্ষম হবে-তা নিরূপণ করা। আজ ইউনেস্কোর প্রতিষ্ঠা দিবস। আজকের দিনে সংগঠনটির গঠনতন্ত্র স্বাক্ষরিত হয়। ইউনেস্কোর প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও বহু ভাষাভাষী মানুষের সমর্থন নিখাদ। অনেকে ইউনেস্কোর পুরো নামই হয়তো জানেন না।

কিন্তু এর সৃজনধর্মী, জনহিতকর ও মানব উন্নয়নের অনুকূলে কার্যক্রমগুলো সম্বন্ধে ধারণা রাখেন। ইউনেস্কোর পুরো নাম ইউনাইটেড নেশন এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন। নামের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সংস্থাটি অব্যাহতভাবে শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও মানবাধিকার চর্চা ও বিকাশে অনন্যসাধারণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। মাঝেমধ্যে পরাশক্তির রক্তচক্ষু এবং হুমকি মোকাবেলাও তাকে করতে হয়।

সংকটে, দুর্যোগে কীভাবে পথ তৈরি করে নিতে হয়, তা ইউনেস্কোর অজানা নয়। ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কোর ২৯তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য হিসেবে প্যারিসে এর প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন, বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও এর বহুমুখী কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণের সুযোগ হয়েছিল আমার। দুটি অধিবেশনে আমি বক্তব্য দিয়েছিলাম।

ইনফরমেশন অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স ও বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্য প্রসঙ্গে বাংলাদেশের নানা পেশার নারী-পুরুষের সৃজনশীল জীবনাচরণ, খাদ্যাভ্যাস, স্বতঃস্ফূর্ত সাংস্কৃতিক চর্চা নিয়ে ভাঙাচোরা ইংরেজিতে বলতে গিয়ে দেখলাম-নানা দেশের প্রতিনিধিরা আগ্রহসহকারে তা শুনছেন। এটি ছিল আমার জীবনের এক আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা।

২০১৪ সালে ইউনেস্কোর আমন্ত্রণে ব্যাংককে (টিচার্স উফেকটিভনেস) শীর্ষক সম্মেলনে যোগদান করে নতুন অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়েছি। আজ এ লেখার সময় পর্যন্ত ইউনেস্কোর তথ্যবহুল শিক্ষা সংকট উত্তরণে নানা দেশের অভিজ্ঞতাভিত্তিক বক্তব্য ও পরিকল্পনা আমাকে সমৃদ্ধ করছে।

দেশে দেশে করোনার মধ্যে শিক্ষাকার্যক্রম কীভাবে চালানো যায়, স্কুল পরিচালনা এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সুরক্ষা নিশ্চিত করা নিয়ে ইউনেস্কোর তথ্য, প্রস্তাব ও বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা উপস্থাপন এটিকে তুলনামূলকভাবে সহজ ও প্রাঞ্জল করে তুলছে।

বিপদে স্থির থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার ও এ ক্ষেত্রে বিরাজিত বৈষম্য সংকোচনে ইউনেস্কোর অবস্থান ও দিকনির্দেশনা প্রতিকূল পরিবেশেও শিক্ষার উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে চলেছে। ইউনেস্কোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এ বিশ্ব সংস্থার প্রতি শুভ কামনা রইল।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

কোন কমেন্ট নেই

উত্তর দিন