সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১, ০১:০৬ অপরাহ্ন

কালো টাকা সাদা হওয়ায় অর্থনীতিতে গতি ফিরেছে: অর্থমন্ত্রী

বুধবার অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সিঙ্গাপুর থেকে এই বৈঠকে অংশ নেন তিনি।

সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, গত ৬ মাসে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি কালো টাকা সাদা হয়েছে।

করোনার মধ্যে এটা কীভাবে হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন: আমরা সাদা করতে চাই বলেই সাদা হলো। বাজেট বক্তৃতায় আছে আমরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে এগুলো এড্রেস করতে চাই। প্রথমে রেমিট্যান্সে প্রণোদনা চালু করেছি। আরও একটা ক্ষেত্র রয়েছে, যেটা প্রত্যেক দেশের জন্য বড় খাত। সেটা হলো আবাসন খাত। এই খাতে স্ট্যাম্প ফি ও ডিউটি বাড়তি থাকার কারণে কোনো রেজিস্ট্রেশন হয় না। ফলে সরকার কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না।

বাড়ি বিক্রি হচ্ছে, অথচ দেখানো হচ্ছে না। বিক্রি যেখানে ১০ টাকা সেটা দেখানো হচ্ছে এক টাকা। ১০ টাকার ওপরে গেলে স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হয়, সেজন্য স্ট্যাম্প ডিউটি কমিয়ে দিয়েছি। এরকম যেসব জায়গায় সংস্কার দরকার, সেখানে করেছি। এসব কারণেই এখন কালো টাকা সাদা হচ্ছে। যেমন পুঁজিবাজারেও কালো টাকা সাদা করেছে, এটা সব দেশেই করে।

অর্থমন্ত্রী বলেন: রেমিট্যান্স গত ৬ মাসে অর্জন হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। পুরো বছরে ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকার বেশি আসতে পারে। এই টাকাগুলো পুঁজিবাজারে যাবে। অফিসিয়ালি এ টাকাগুলো আসাতে অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। যেমন-একজনের একটা লেনদেন ১০ হাত ঘোরে। এতে অর্থনীতি অনেক বেগবান হচ্ছে।

তিনি বলেন: আমি মনে করি আমাদের উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। পুরোপুরি না হলেও, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা সফল হয়েছি। আমরা চাই কালো টাকা সাদা হোক। টাকা কালো হওয়ার কারণ নিয়ে অনেকবার ব্যাখ্যা দিয়েছি।

সুদ হার বিষয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, সুদের হার অনেক বেশি ছিল। এত বেশি সুদ হারে কোনো দেশে শিল্পায়ন হয় না। পাশাপাশি কোনোদিন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না। আমরা সেখানেও মোটামুটি সফল। আমরা যেটি করে দিয়েছি সেটা সবাই গ্রহণ করেছে। এখন যে ৬ শতাংশে ঋণ পাচ্ছে যা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। বিদেশে টাকা রাখলে উল্টো টাকা দিতে হবে। সেখানে লাভ পায় না, যদিও পায় সেটা এক থেকে দেড় শতাংশ। সেখানে আমাদের দেশে ৬ শতাংশ পাচ্ছে। এটা হলো আমাদের ইতিবাচক দিক।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন: টাকা আমাদের পলিসিগত কারণে কালো হয়। অনেকেই ট্যাক্স দেন, আবার অনেকেই দেন না। আবার ট্যাক্স রেট অনেক বেশি ছিল। আস্তে আস্তে যদি এগুলো কমিয়ে আনতে না পারলে হবে না। অনেকের টিআইএন নম্বর আছে কিন্তু আমরা ট্যাক্স পাচ্ছি না। টিআইএন নম্বর দিয়ে কী হবে, যদি ট্যাক্স না পাই? সে কাজটি করার জন্য আমরা ফুল অটোমেশনে যাচ্ছি। যতদিন পর্যন্ত অটোমেশন শেষ করতে না পারি ততদিন পর্যন্ত আমাদের এ সমস্যা থাকবে। সেজন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে রাজস্ব খাতে অটোমেশনের।’

তিনি বলেন: আমাদের আমদানি কমে গেছে, যদি আমদানি বেশি থাকতো তাহলে আমাদের ডিউটি বাড়তো। আমাদের আয়করের হার ভালো আছে। তুলনামূলক আমরা অনেক দেশের থেকে ভালো আছি।

পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন: পুঁজিবাজারে যদি বিদেশি বিনিয়োগ থাকতো তাহলে তারা যেকোনো মুহূর্তে পুঁজি তুলে নিতে পারতো। যেটা আমরা ১৯৯৭ সালে দেখেছি। সাউথ এশিয়ার সাথে যেটা হলো। সে সময় বিদেশিদের টাকা তারা তুলে নিয়ে যাওয়ায় অর্থনীতি বসে গেছে। আমাদের এ ধরনের চিন্তার কোনো কারণ নেই। কারণ, আমাদের ফিসক্যাল পলিসি ও মনিটরি পলিসি, বাজেট, পঞ্চবার্ষিক প্ল্যান সঠিক আছে। সেজন্য আমরা ভালো আছি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com