সোমবার, ০৬ Jul ২০২৬, ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ, জিঞ্জিরাম ও সোনাভরি নদীতে সারিবদ্ধভাবে প্রায় ৩০ টি ড্রেজার মেশিন নদীতে বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী বালু উত্তোলনকারী ব্যবসায়ীরা। বসত ভিটা, রাস্তা, ব্লক তৈরি, স্কুল মাঠ ভরাটসহ ট্রাক্টর দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি হচ্ছে এসব বালু। এতে উপজেলার অনেক নদীতে অসময়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর তীরবর্তী মোহনগঞ্জ, চর নেওয়াজী, বাউল পাড়া, বালিয়ামারী, রাজিবপুর মুন্সিপাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম রয়েছে ভাঙনের হুমকির মুখে। প্রশাসনিকভাবে বার বার নিষেধ করা সত্ত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে চলছে বালুর ব্যবসা। অবৈধ ড্রেজার মেশিন বন্ধের জন্য দফায় দফায় রাজিবপুর উপজেলা ভূমি কমিশনার, কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর নিকট অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না ভুক্তভোগীরা।
মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের ড্রেজার মেশিনের মালিক শামীম হোসেন বলেন, ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে সরকারের উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করা হয়। আমরা বালু উত্তোলন না করলে উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে যাবে।
ওই এলাকার হাবিবুর, হাজের, কাদের বলেন, ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীর ভেঙে যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয় না, আমরা অসহায় মানুষ আমাদের কথা কে শোনে।
রাজিবপুর উপজেলা কমিশনার (ভূমি) গোলাম ফেরদৌস জানান, আমি ড্রেজার মেশিন চালানোর কোনও অনুমতি দেইনি। গত ৩ জানুয়ারি মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা খালেকুজ্জামানকে পাঠিয়ে অবৈধ ড্রেজার বন্ধ করিয়েছি। কাজের চাপে ওই এলাকায় যাওয়া সময় হয় নাই। তবে আমি দ্রুত পদক্ষেপ নেবো।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহে নদীর তীর সংরক্ষণ কাজের পরিদর্শন গিয়ে কয়েকটি ড্রেজার মেশিনের কিছু মালামাল জব্দ করে নিয়ে সব ড্রেজার বন্ধের নির্দেশ হয়েছে। কোন ড্রেজার মেশিনের অনুমতি আমার দেওয়া নাই। আমার নাম ব্যবহার করে কেউ মেশিন চালালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নবীরুল ইসলাম বলেন, ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।