বুধবার, ০১ Jul ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
জুলাই স্মরণে জামায়াতের ৩৬ দিনের কর্মসূচি অনলাইন বেটিংয়ে ৭ বছর জেল, ৫ কোটি টাকা জরিমানা হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা নিষেধ, গণমাধ্যমকে আদালতের নির্দেশনা মানতে হবে : তথ্য উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

চরের মাস্টার কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার

কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের ছাত্র শফিক (ছদ্মনাম)। জটিল প্রোগ্রাম আর কোডিংএর মধ্যেই কেটেছে প্রায় ৬ বছর। পরিকল্পনা ছিল পাশ করে বেরিয়ে আকর্ষণীয় একটা চাকরি পেয়েই বিয়ে করবেন প্রেমিকাকে। দুই পরিবার তাদের সম্পর্কের বিষয়টিও জানলো। কিন্তু! তীরে এসে তরী ডুবলো। শেষ মুহূর্তে সম্পর্কের ইতি; তাদের আর বিয়ে করা হয়নি। বিচ্ছেদের যন্ত্রণায় অনেকে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত নেয়,কিন্তু তরুণ প্রকৌশলী শফিক অদ্ভুত এক কাণ্ড করে বসলেন। কর্পোরেট সুবিধা কিংবা দেশের বাইরে যাবার সুযোগ ছেড়ে চলে গেলেন যমুনার দুর্গম চরে।

চরে পা রেখেই শফিকের সিদ্ধান্ত, চরকে সাজাবেন নিজের মতন করে। খেয়াল করলেন চরের কৃষকরা প্রচুর সবজি উৎপাদন করেন অথচ বিনিময়ে সামান্য অর্থ পান, মধ্যসত্বভোগীরা হাতিয়ে নেয় বেশির ভাগ। শফিক ঢাকার কারওয়ানবাজারের সবজি ব্যবসায়ীদের  সঙ্গে কৃষকদের সংযোগ তৈরি করে দিলেন। ৬ মাসের মধ্যে কৃষকের আয় হয়ে ওঠে দ্বিগুণ। ওদের ভালবাসায় সিক্ত হয় শফিক।

চরের সব তরুণদের নিয়ে একদিন বসলেন শফিক। তাদের হাতে কলমে শেখালেন ইন্টারনেট। ঢাকা থেকে কম্পিউটার আর যন্ত্রাংশ নিয়ে চরের বসে পড়লেন এই কর্মযজ্ঞে। বছরে ঘুরতেই তৈরি হল শতাধিক উদ্যোক্তা। আউটসোর্সিং, ই-কমার্সসহ নানান পেশায় অনেকের তৈরি হল ক্যারিয়ার। কৃষকরাও পেলো কৃষি পরামর্শ। শফিকের পরিচয় হয়ে ওঠে ইঞ্জিনিয়ার সাহেব।

চরের মানুষরা শফিককে একটা বাড়ি তৈরি করে দিয়েছেন। সেখান শফিক বিনামূল্যে চরের শিশুদের পড়াশোনা শেখায়। তৈরি করেছেন নিজের হাঁস-মুরগি আর গরুর খামার। আর সেগুলো অনলাইনে বিক্রিও করেন। প্রযুক্তি নির্ভরতায় আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে গোটা চরাঞ্চল। মাত্র সাড়ে ৩ বছরের মাথায় বিরানভূমি হয়ে ওঠে ‘ডিজিটাল চর’।

একটুকরো চরকে ‘ডিজিটাল চরে’ রূপান্তরের গল্পটি ২০১৭ সালের। চরের মাস্টারের খবর তখন গণমাধ্যমেও উঠে আসে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও তখন তৈরি হয় আগ্রহ। ডিজিটাল ইনোভেশন সামিট কিংবা সফটওয়ার এক্সপো গুলোতেও শফিক হয়ে ওঠেন আলাপের বিষয়।

ঈদকে সামনে রেখে চরের মাস্টার কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ফিকশনটি কেবল ওভার দ্য টপ (ওটিটি) প্লাটফর্মেই নয়, প্রচারিত হচ্ছে তিনটি বেসরকারি টেলিভিশনেও।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com