শনিবার, ০৪ Jul ২০২৬, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন
ফ্লোর প্রাইস পুরোপুরি তুলে নেওয়ার প্রাথমিক ধাক্কা প্রথম কার্যদিবসের প্রথম ঘণ্টার লেনদেনেই সামলে নিয়েছে শেয়ারবাজার। রোববার প্রথম দেড় ঘণ্টার লেনদেন শেষে সকাল সাড়ে ১১টায় প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২১ পয়েন্ট হারিয়ে ৬০৩১ পয়েন্টে অবস্থান করছিল।
যদিও আজ সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর মাত্র ১১ মিনিটে সূচকটি ৪২ পয়েন্ট হারিয়ে ৬০১০ পয়েন্টে নামে। পরের ১৪ মিনিটে ওই অবস্থান থেকে ৩২ পয়েন্ট বেড়ে ৬০৪২ পয়েন্টে ওঠে। লেনদেনের পরের এক ঘণ্টায় সূচকের ওঠানামা থাকলে তা বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেনি।
সকাল সাড়ে ১১টায় ১২২ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ২০৩টিই দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। দর অপরিবর্তিত অবস্থায় ছিল ৩৭টি শেয়ার। প্রথম দেড় ঘণ্টায় ৫৫৩ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।
দর হারানো ২২৮ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে মাত্র ৮টিকে সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে কেনাবেচা হতে এবং বিক্রেতা শূন্য অবস্থা দেখা গেছে। এই শেয়ারগুলো হলো- সী পার্ল, এসকে ট্রিমস, সমতা লেদার, কপারটেক, নূরানী ডাইং এবং স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক।
আজকের লেনদেনের প্রথম ঘণ্টা শেষে লেনদেনে আসা ৩৬৩ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে মাত্র ২৪টির দর ৫ শতাংশ বা তার বেশি কমে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে।
বিপরীতে আজকের সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে চার কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। শেয়ারগুলো হলো- মুন্নু ফেব্রিক্স, মনোস্পুল পেপার, তমিজুদ্দিন টেক্সটাইল, ইউনিক হোটেল এবং খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ।
সকাল সাড়ে ১১টায় বীমা এবং সিরামিক খাতের মিশ্রধারা দেখা গেছে। এর বাইরে অন্য সব খাতের অধিকাংশ শেয়ার দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। তবে দর হারানোর হার ছিল তুলনামূলক কম।
ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হলেও বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব না থাকার কারণ বিষয়ে ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা বলেন, ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার আগের তিন দিনে কোনো শেয়ারই ফ্লোর প্রাইসে পড়ে ছিল না।
এছাড়া গুটিকয় কোম্পানির শেয়ার ফ্লোর প্রাইস থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বেশি দরে কেনাবেচা হচ্ছিল। ফ্লোর প্রাইস ছাড়িয়ে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ বেশি দরে কেনাবেচা হচ্ছিল ফ্লোর প্রাইস কার্যকর থাকা শেয়ারগুলোর অর্ধেকেরও বেশি। ফলে কিছুটা উৎকণ্ঠা থাকলেও বিনিয়োগকারীরা ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার খুব একটা ঘাবড়ে যাননি, বরং স্বাভাবিকভাবে নিয়েছেন।
লাগাতার দরপতন ঠেকাতে গত বছরের ১৯ মার্চ সব শেয়ারের সর্বনিম্ন বাজারদর (ফ্লোর প্রাইস) নির্ধারণ করে দিয়েছিল তৎকালীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এর নতুন কমিশন দায়িত্ব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে বাজারমুখী করার চেষ্টা করেন। এতে কাজও হয়েছে। গত এক বছরে বাজারে গতি ফিরেছে। বাজার সূচক ৪০০০ পয়েন্ট থেকে উঠে এসেছে ৬০০০ পয়েন্টে। একদিনে ঢাকার শেয়ারবাজারের লেনদেন মাত্র ৩৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
এ অবস্থায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় ৬৬ কোম্পানির শেয়ারের ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস তুলে নিয়েছিল বিএসইসি। দ্বিতীয় দফায় গত ৩ জুন আরো ৩০ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস তুলে দেয়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সব শেয়ারের ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস তুলে নিয়েছে।