শুক্রবার, ০৩ Jul ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ন

বরিশালে আওয়ামী লীগ-পুলিশ সংঘর্ষ: কয়েকশ’ কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১২

বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনের সামনে আনসার ও পুলিশ সদস্যদের ৩ দফা গুলি, ক্ষমতাসীন ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সাথে দফায় দফায় হামলা-সংঘর্ষের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুটি মামলায় ৩০ থেকে ৪০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকশ জনকে আসামী করা হয়েছে।

এর মধ্যে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু এবং সদর উপজেলা কড়াপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার বাবুসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে উদ্ভুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১০ প্লাটুন বিজিবি চেয়েছে বরিশাল জেলা প্রশাসন। এছাড়া পাশের বিভিন্ন জেলা থেকে ৮ জন নির্বার্হী ম্যাজিস্ট্রেট আনা হচ্ছে বরিশালে। এ ঘটনা খতিয়ে দেখে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

সিটি করপোরেশনের ব্যানার-বিলবোর্ড অপসারণ নিয়ে গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে সদর উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে ৩ দফা গুলি এবং দফায় দফায় লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও পাল্টা ইট পাটকেল ছোড়ে পুলিশের উপর। হামলা-সংঘর্ষে পুলিশ, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও কর্মীসহ অর্ধ শতাধিক মানুষ আহত হয়। আহতদের শের-ই বাংলা মেডিকেল এবং জেলা পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভোর রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজনসহ মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এদিকে সরকারি বাসভবনে হামলার অভিযোগে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমান বাদী হয়ে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কোতয়ালী মডেল থানার একটি মামলা দায়ের করেন। অপরদিকে পুলিশের উপর হামলা এবং সরকারি কাজে বাধাদানের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় পৃথক একটি মামলা দায়ের করেন। দুটি মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ১২ জনসহ ৩০ থেকে ৪০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা কয়েক শ’ জনকে আসামী করা হয়েছে।

কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে নগরীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। দুটি মামলার অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com