বৃহস্পতিবার, ০২ Jul ২০২৬, ০৬:৪২ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
জুলাই স্মরণে জামায়াতের ৩৬ দিনের কর্মসূচি অনলাইন বেটিংয়ে ৭ বছর জেল, ৫ কোটি টাকা জরিমানা হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা নিষেধ, গণমাধ্যমকে আদালতের নির্দেশনা মানতে হবে : তথ্য উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

জাতীয় সংসদের রীতিনীতির আধুনিকায়নে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতীয় সংসদের প্রচলিত রীতিনীতির আধুনিকায়ন এবং সংস্কারে সাবেক স্পিকার প্রয়াত হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি সাবেক স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর ৯৩তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আজ এক বাণীতে এ কথা বলেন।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১নভেম্বর) ‘আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কূটনীতিবিদ ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর ৯৩তম জন্মজয়ন্তীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের মহান স্বাধীনতার ইতিহাসে বীর মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে বাঙালির পক্ষে কূটনৈতিক যুদ্ধের মানসিক প্রস্তুুতি গ্রহণ করেন।’
তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর নয়াদিল্লি¬স্থ পাকিস্তানি দূতাবাসে কর্মরত অবস্থায় হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করেন। এ সময় দূতাবাসে কর্মরত বাঙালিদের জীবন রক্ষায় হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি তখন বিদেশি গণমাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং বন্দী  নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির জন্য জোরালো আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধজয়ের পর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের স্বীকৃতি আদায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেন। তাঁর বিচক্ষণতায় ৩৪টি দেশ স্বল্প সময়ে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতার নির্মম হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ‘আমাকে এবং আমার বোন শেখ রেহানাকে বেলজিয়াম থেকে তৎকালিন পশ্চিম জার্মানিতে আনার ব্যবস্থা করেন। আমাদের চরম দুঃসময়ে তিনি এবং তাঁর সহধর্মিণী মেহজাবিন চৌধুরী পরম মমতায় আমাদের দুই বোনকে আগলে রাখেন। সেসময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী  ইন্ধিরা গান্ধীর সঙ্গে যোগাযোগ করে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী দিল্ল¬ীতে আামাদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন। অকুতোভয় এই কূটনীতিবিদকে সেজন্য ষড়যন্ত্রকারীদের রোষানলে পড়তে হয় এবং তিনি (চৌধুরী) বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হন।’
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ২১ বছর পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করলে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীকে স্পিকারের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। জাতীয় সংসদকে গতিশীল এবং জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০১৮ সালে মরহুম রশীদ চৌধুরীকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক প্রদান করা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার প্রত্যাশা, স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী স্মৃতি পরিষদের নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে মরহুমের অবদান জাতির সামনে উপস্থাপন এবং নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবেন।’
তিনি সাবেক স্পিকার মরহুম হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com