বৃহস্পতিবার, ০২ Jul ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন
মন্ত্রিসভা থেকে সদ্য পদত্যাগ করা তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের পদত্যাগপত্র মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিনের মাধ্যমে ডা. মুরাদ হাসানের পদত্যাগপত্র মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, মুরাদ হাসান যে বক্তব্য দিয়েছেন তা তার ব্যক্তিগত মতামত। এটি দলীয় বক্তব্য নয়।
এর আগে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নিজের দপ্তরে ইমেইলের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠান মুরাদ হাসান। প্রক্রিয়া অনুযায়ী সেই পদত্যাগপত্র মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হলো। তার পদত্যাগের পরবর্তী প্রক্রিয়া চলছে।
মঙ্গলবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, ’স্যার পদত্যাগপত্র মেইলে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠিয়েছেন। পদত্যাগের জন্য তিনি ‘ব্যক্তিগত কারণের’ কথা বলেছেন। গিয়াস জানান, মঙ্গলবার বেলা ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ইমেইলে প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র আসে।
পরবর্তী পদক্ষেপ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সচিব স্যারের অপেক্ষায় আছি। তিনি (সচিব) পরবর্তী নির্দেশনা দেবেন। বিধি অনুযায়ী, পদত্যাগপত্র কার্যকর হওয়ার জন্য এখন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা হবে।
প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরেই বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে আলোচনায়-সমালোচনার মুখে পড়েন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাতনি জাইমা রহমানকে নিয়ে সম্প্রতি অশালীন ও বর্ণবাদী মন্তব্য করে সমালোচিত হন তিনি। এরই মধ্যে চিত্রনায়িক ইমন ও চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে আপত্তিকর ফোনালাপ ফাঁস হয়। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে মুরাদ হাসানকে মঙ্গলবারের মধ্যে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকেটে জামালপুর-৪ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মুরাদ হাসান। এরপর ২০১৮ সালে তিনি দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য হন। ২০১৯ সালে শেখ হাসিনা টানা তৃতীয়বার সরকার গঠন করলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান মুরাদ। ২০১৯ সালে তাকে স্বাস্থ্য থেকে সরিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে ডা. মো. মুরাদ হাসানের অশালীন ও শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার আপত্তিকর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।