বৃহস্পতিবার, ০২ Jul ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
জুলাই স্মরণে জামায়াতের ৩৬ দিনের কর্মসূচি অনলাইন বেটিংয়ে ৭ বছর জেল, ৫ কোটি টাকা জরিমানা হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা নিষেধ, গণমাধ্যমকে আদালতের নির্দেশনা মানতে হবে : তথ্য উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

‘ভারত নিরাপদ না থাকলে বাংলাদেশ অনিরাপদ’

ঢাকা সফরের প্রথম দিনে সিরিজ কর্মসূচিতে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন ভারতের বিদেশ সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। তার মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠক ছিল পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে। প্রায় ৫০ মিনিট স্থায়ী বৈঠকে দুই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার বার্নিং ইস্যুগুলো নিয়ে কথা বলেন তারা। দ্বিপক্ষীয় ওই আলোচনায় বাংলাদেশ-ভারত ৫০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তিতে আগামী দিনগুলোতে কীভাবে আরও সম্পর্কোন্নয়ন করা যায়- তা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। মঙ্গলবার ফরেন সার্ভিস একাডেমির ওই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দুই পররাষ্ট্র সচিব। কোভিড পরিস্থিতি যৌথভাবে মোকাবিলার ওপর জোর দিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, বাংলাদেশ কখনোই নিরাপদ থাকবে না, যদি ভারত নিরাপদ না থাকে এবং একই কথা ভারতের জন্যও প্রযোজ্য। যৌথ ব্রিফিংয়ে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের অমীমাংসিত ও বহুমাত্রিক অনেক বিষয় রয়েছে। সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।

সামনের দিনে কীভাবে এগিয়ে যাবো, সেটা নিয়ে আলোচনা করেছি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চলতি বছর মার্চে ঢাকা সফর করেছেন এবং ভারতের প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দ  এ মাসেই ঢাকা আসছেন জানিয়ে সচিব বলেন, একই বছরে ভারতের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের বাড়তি তাৎপর্য রয়েছে। এটি একটি অনন্য ‘রেকর্ড’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সোমবার বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস যৌথভাবে পালন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন আমাদের দুই দেশের সম্পর্কে একটা স্বর্ণযুগ চলছে। সেখানে সংযুক্তিসহ সামনের দিনের যে বিষয়গুলো আছে, পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে সহযোগিতা, নতুন নতুন প্রযুক্তি সেগুলো নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি। কীভাবে আরও অগ্রসর হতে পারি, তা নিয়ে কথা বলেছি। মাসুদ বিন মোমেন বলেন, একইভাবে অমীমাংসিত বিষয় যেগুলো আছে, সেগুলোর কীভাবে সমাধান করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেছি। আমাদের সীমান্ত কীভাবে আরও শান্তিপূর্ণ করা যায়, সেটা নিয়ে আলোচনা করেছি। আমাদের বাণিজ্য বাড়ানো, করোনা মোকাবিলায় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। করোনার আরও নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্ট আসতে পারে। তাই এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে। এ সময় ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বাংলায় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে বলেন, বাংলাদেশে আসতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে দেখা করেছি। সন্ধ্যায় ভারতীয় হাইকমিশনারের বাসায় পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হবে। ডিসেম্বর মাস বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ১৬ই ডিসেম্বর উদ্‌?যাপন উপলক্ষে বাংলাদেশে আসবেন। শ্রিংলা বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক ভালোভাবে যাচ্ছে। দুই দেশের একসঙ্গে উদ্‌?যাপন বিরল। বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণ ১৯৭১ সালে জীবন উৎসর্গ করেছিল। স্বাধীনতার জন্য রক্ত দিয়েছিল। আপনাদের বিজয় দিবসের অংশ হতে পেরে আমরা গর্বিত। ভারতের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে আসছেন। এটা তাঁর প্রথম বাংলাদেশ সফর। গত মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকায় এসেছিলেন। সেটি ছিল কোভিডের সময় তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। এতে সম্পর্কের তাৎপর্য প্রতিফলিত। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা সম্পর্কের সোনালি অধ্যায়ে প্রবেশ করেছি। দুই দেশের সহযোগিতার ক্ষেত্রে বড় কোনো বাধা নেই। কীভাবে সামনের দিনগুলোতে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি, এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল সহযোগিতা নিয়ে কথা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যুক্ত। এতে দুই দেশের জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। কনেক্টিভিটি বিষয়ক এক প্রশ্নের উত্তরে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা জানান, ১৯৬৫ সালের আগের ছয়টি সংযুক্তির মধ্যে পাঁচটি চালু হয়েছে, ষষ্ঠটি আগামী বছর শেষ হবে। আখাউড়া-আগরতলা নতুন প্রকল্প আগামী বছর চালু হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাবিত দিল্লি সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আমরা চাই তিনি ভারত সফর করুন। গত মার্চে ঢাকা সফরের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এটি এখনো বহাল। দুই দেশের মধ্যে এ সফর সুবিধাজনক কোনো সময়ে করা যায়, তা নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে বিশেষ করে ওমিক্রনের কারণে উদ্বেগ আছে। তবে যত শিগগির সম্ভব তিনি ভারত সফর করুন। আমরা তার সফরের জন্য অপেক্ষায় রয়েছি। দুইদিনের সফরে মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় আসেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, তিনি দুপুরে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে আলোচনা করেন। এরপর বিকেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সফরের দ্বিতীয় দিনে (বুধবার) ভারতের পররাষ্ট্রসচিব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এদিনই তিনি দিল্লি ফিরে যাবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com