বুধবার, ০১ Jul ২০২৬, ০৯:২২ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
জুলাই স্মরণে জামায়াতের ৩৬ দিনের কর্মসূচি অনলাইন বেটিংয়ে ৭ বছর জেল, ৫ কোটি টাকা জরিমানা হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা নিষেধ, গণমাধ্যমকে আদালতের নির্দেশনা মানতে হবে : তথ্য উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

দেদার আমদানিতেও ধুন্ধুমার চোরাচালান

স্বর্ণ আমদানি রেকর্ড ভাঙছে। চোরাচালান হয়ে আসাও রয়ে গেছে আগের মতো। বৈধ, অবৈধ পথে যত স্বর্ণ দেশে ঢুকছে এত চাহিদা স্থানীয়ভাবে নেই। এর বড় অংশই দেশ থেকে বাইরের দেশে পাচার হচ্ছে। আর পুরো অপতৎপরতায় জড়িয়ে আছে অনেক সিন্ডিকেট আর প্রভাবশালীদের নাম।

বৈধ আমদানির অনুমোদনের পরও দেশে স্বর্ণের ব্যবসা চোরাচালাননির্ভরই রয়ে গেছে। এক সময়ের ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চোরাই স্বর্ণের প্রধান রুট হলেও দিনেদিনে ট্রানজিট হয়ে উঠছে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর। এর পাশাপাশি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়েও ঢুকছে চোরাই স্বর্ণ। বৈধ পথে যাত্রীরা স্বর্ণ আমদানি করলেও অবৈধ পথে এখনও সক্রিয় আছে বড় সিন্ডিকেট।

এ সিন্ডিকেটে রয়েছে চট্টগ্রামের রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ির চক্রসহ আরও কয়েকটি গ্রুপ। চক্রে নেতৃত্ব দেওয়া আবু আহম্মদ নামের এক ব্যক্তিসহ ১২ জন জেলে থাকলেও তাদের লোকজন এ কারবার দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে তার ২৪ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্ব্বর্ণ চোরাচালানের সাড়ে চারশ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পেয়েছে সিআইডি। কসমেটিকস ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রীর আড়ালে এ লেনদেন হয় বলে নিশ্চিত হয়েছে সিআইডি। ইতোমধ্যে আবুসহ ১২ চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তারও করে তারা। আটকদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যদের নামও।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ‘ম্যানেজ’ করেই দীর্ঘ দিন শাহজালাল বিমানবন্দর ঘিরে চোরাই স্বর্ণের ব্যবসা রমরমা ছিল। বিমানবন্দরে দায়িত্বরত সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের এই বার্তা দেওয়া হয়- চোরাই স্বর্ণ বিমানবন্দর হয়ে ঢুকলে এর পুরো দায়ভার তাদের নিতে হবে। এমনকি চোরাই স্বর্ণ ধরা পড়লেও এর নেপথ্যে কারা রয়েছেন তাও বলতে হবে। এমন কঠোর বার্তার পর শাহজালাল বাদ দিয়ে চট্টগ্রাম ও সিলেটকে রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের কাস্টমস কমিশনার ফখরুল আলম বলেন, ‘বৈধ পথে স্বর্ণ আমদানি বেড়েছে। কিন্তু অবৈধ পথেও স্বর্ণ আসছে। আগের তুলনায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অনেক বেশি সতর্ক। তাই একের পর এক চালান ধরাও পড়ছে চোরাকারবারিদের।’ শুল্ক গোয়েন্দা চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক একেএম সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘স্বর্ণ পাচারের ঘটনায় মূলত বাহকদেরই ধরা হচ্ছে। গডফাদাররা আড়ালে থাকছেন। তবে আগের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক সজাগ আছে এখন। এ জন্য নিত্যনতুন কৌশল নিতে হচ্ছে চোরাকারবারিদের।’

সিআইডির পুলিশ সুপার শাহ নেওয়াজ খালেদ বলেন, স্বর্ণ উদ্ধারের পর মামলা হয় সংশ্নিষ্ট থানায়। এজাহারের সূত্র ধরে তদন্ত হয়। কেন মূল হোতারা আসামি হন না এটা সংশ্নিষ্ট থানা বলতে পারবে। আবু আহমেদসহ কয়েকজন হোতাকে চিহ্নিত করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো মামলার রায় হয়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com