মঙ্গলবার, ৩০ Jun ২০২৬, ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘চরকি’তে ভিকি জাহেদের ‘রেডরাম’ ওয়েব ফিল্ম দিয়ে ব্যাপক আলোচিত হয়েছেন আফরান নিশো। ফিল্মটিতে নিশো গোয়েন্দা পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হন। সেই রেশ কাটতে না-কাটতেই এই তারকা নতুন ওয়েব সিরিজে নাম লেখালেন। ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ের ‘কাইজার’ সিরিজে অভিনয় করছেন নিশো। পরিচালনা করছেন তানিম নূর।
চতুর্থ বছর পূর্তিতে গত বছর ২০টি অরিজিনালস ওয়েব সিরিজের ঘোষণা দিয়েছিল হইচই। জানানো হয়, এর মধ্যে পাঁচটি কনটেন্ট নির্মাণ করবেন বাংলাদেশের পাঁচ নির্মাতা। তারই একটি নির্মাণ করবেন বাংলাদেশের তানিম নূর। কেন্দ্রীয় চরিত্রে আছেন নিশো। কিছুদিন ধরে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল হইচইয়ের ঘোষিত ওয়েব সিরিজ ‘কাইজার’ নিয়ে। সিরিজটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে কে অভিনয় করবেন, তা নিয়ে অনেক কথা শোনা গেলেও অবশেষে জানা গেল সিরিজটির কেন্দ্রীয় চরিত্র অর্থাৎ ‘কাইজার’-এর নামভূমিকায় অভিনয় করছেন নিশো। গত বুধবার থেকে রাজধানী ঢাকায় শুরু হয়েছে শ্যুটিং। শুধু ঢাকা নয়, ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন লোকেশনে এর চিত্রায়ণ হবে ২০ দিনের মতো। আফরান নিশো বলেন, ‘একদমই ভিন্ন এক চরিত্রে দর্শক আমাকে দেখতে পাবেন, একেবারেই নতুন লুক। আমি অভিনয় করব একজন গোয়েন্দার ভূমিকায়, ‘কাইজার’-এর নামভূমিকায়। এর বেশি কিছুই বলতে চাই না।’ ‘কাইজার’ সম্পর্কে ধারণা দিতে গিয়ে নিশো জানান, ‘হোমিসাইড ডিটেকটিভ কাইজার চৌধুরী। পেশায় পুলিশ, কিন্তু রক্ত দেখলেই ভয় পান এই গোয়েন্দা। চরিত্রটি অন্য গোয়েন্দা চরিত্র থেকে বেশ আলাদা। ইউনিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাই কাজটি করতে আরও ভালো লাগছে। দর্শক দেখার পর বলবেন তারা কতটা উপভোগ করলেন।’
আস্তে আস্তে ওয়েবের দিকে ঝুঁকছেন কি না জানতে চাইলে জনপ্রিয় এই অভিনেতা বলেন, ‘টেলিভিশনে তো অনেক বছর ধরে নিয়মিত কাজ করলাম। এখনো ভিন্ন ধরনের কোনো গল্প পেলে কাজ করছি। তবে আগের চেয়ে কাজ কমিয়ে দিয়েছি। কারণ নতুন মাধ্যমগুলোতে নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ হচ্ছে। আমি চাই এই অভিজ্ঞতাগুলো অর্জন করতে। মোটকথা যেখানেই নতুন কিছু পাব, সেখানেই আমি কাজ করতে চাই। মাধ্যম নিয়ে আমার কোনো চিন্তা নেই। কাজটি দর্শকের কাছে পৌঁছালেই অভিনেতা হিসেবে আমার সার্থকতা।’
ওটিটির কাজ নিয়ে এই অভিনেতা আরও বলেন, ‘ওটিটি বড় প্ল্যাটফর্ম। এখানে কাজের সুবিধা আছে। ধরুন, ৫ লাখ টাকা বাজেটের একটি কাজে একজন পরিচালক যা দেখাতে পারবেন, ৫০ লাখ টাকা বাজেটে তার চেয়ে ভালো কিছু দেখাতে পারেন। তা ছাড়া ওটিটির কাজে আয়োজনটাও বড়। এখানে অভিনয় দেখানোর জায়গা আছে। একইভাবে আর্থিক সচ্ছলতার সুযোগ থাকছে। সব মিলে একজন অভিনেতা তো সেই সুযোগ নেবেনই।’
টিভি নাটকের বাজেট কম থাকলেও কয়েকজন তারকা থাকলে প্রযোজকদের বাজেটের অভাব হয় না। নিশো তার মধ্যে অন্যতম। এজন্য অনেক পরিচালক তাকে নিয়ে কাজ করতে চান। কিন্তু শোবিজে গুঞ্জন, নিশো তার কাছের নির্মাতাদেরই শুধু শিডিউল দেন। অন্যরা তাকে খুঁজেই পান না। অনেক পরিচালকেরই অভিযোগ, তিনি ফোন ধরেন না। এ প্রসঙ্গে নিশো বলেন, ‘এটি হতেই পারে, হওয়ারই তো কথা। সবার ফোন ধরতে হবেই বা কেন। সব শিল্পী সব পরিচালকের ফোন ধরবেন না, এটাই স্বাভাবিক। আমি যদি বলি, সব শিল্পীর ফোন কি সব পরিচালক ধরেন? এমনও তো শুনি, অনেক নতুন শিল্পী আছেন, ভালো কাজের প্রত্যাশায় যারা নিয়মিতই বড় পরিচালকদের ফোন দেন, তারাও তো ফোন ধরেন না। আমার ক্ষেত্রে কী হয়, অনেক চিত্রনাট্য আসে, পছন্দ না হওয়ায় সব কাজ করি না। যাদের কাজ করছি না, তাদের জানানোর পরও ফোন দেন। এখন যদি ফোন ধরেই সমাধান হতো তাহলে ধরা যেত, কিন্তু না, তারা শুনতে চান না। আমি যদি সারা দিন এ ধরনের ফোনই ধরতে থাকি, কথা বলতে থাকি, তাহলে আমি কাজ করব কখন?’