সোমবার, ২২ Jun ২০২৬, ১২:৪২ পূর্বাহ্ন
গ্রাহককে না জানিয়ে গ্রাহকের মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে এক কোটি ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মেঘনা ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। গতকাল বুধবার (১১ অক্টোবর) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, গাজীপুরের উপ-পরিচালক মাজাহার আলী সরদার বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার আসামিরা হলেন, মেঘনা ব্যাংক লিমিটেড নরসিংদীর মাধবদী শাখার জুনিয়র অফিসার (সাময়িক বরখাস্ত) প্রদীপ চন্দ্র সুত্রধর, একাই শাখার সিনিয়র অফিসার ও ডেপুটি ম্যানেজার (সাময়িক বরখাস্ত) মো. শাইখ মুত্তাকীন, ওই ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক ও বর্তমানে পদ্মা ব্যাংকের গুলশান কর্পোরেট শাখার এফডিপি শাহ মিরাজ, নরসিংদী সদরের পশ্চিম কান্দাপাড়া এলাকার প্রদীপ চন্দ্র সূত্রধরের স্ত্রীর বড় ভাই মনোজ কুমার দাস ও প্রদীপ চন্দ্র সুত্রধরের স্ত্রী চামেলী দাস।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মেঘনা ব্যাংক লিমিটেডের নরসিংদীর মাধবদী শাখায় জুনিয়র অফিসার প্রদীপ চন্দ্র সুত্রধর গ্রাহকদের ব্যাংক হিসাব খোলা এবং ব্যাংক একাউন্ট অভ্যন্তরীণ ফান্ড বা একাউন্ট ট্রান্সফারসহ কাস্টমার সার্ভিসের কাজ করতেন। সে সুযোগে তিনি নিরীহ কয়েকজন গ্রাহককে বেছে নিয়ে ফান্ড ট্রান্সফার করেন। প্রতারণার অংশ হিসাবে ব্যাংক শাখার ডেপুটি ম্যানেজার মো. শাইখ মুত্তাকীন গ্রাহকের আবেদন ছাড়াই অবৈধভাবে মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করার জন্য ইনপুট দিয়ে ম্যানেজার শাহ মিরাজকে প্রস্তাব করলে ফান্ড ট্রান্সফার তিনি অনুমোদন দেন। যাতে গ্রাহক প্রকৃত লেন—দেনের তথ্যসহ অবৈধ লেনদেনের তথ্য না পায়।
পরে মেঘনা ব্যাংকের গ্রাহক নিতাই চন্দ্র সাহার নামে ফান্ড ট্রান্সফারের আবেদনপত্র প্রস্তুত করে গ্রাহকের জাল স্বাক্ষর নিয়ে ব্যাংকের জুনিয়র অফিসার প্রদীপ চন্দ্র সুত্রধর প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে গ্রাহকের স্বাক্ষর নিজেই যাচাইকারী হিসেবে ভেরিফাইড স্বাক্ষর দেন। শাখার ডেপুটি ম্যানেজার মো. শাইখ মুস্তাকীন ও ম্যানেজার শাহ মিরাজের অনুমোদন নিয়ে ওই একাউন্ট থেকে ১৬ টি ডেবিট লেনদেনে মোট ৮০ লাখ টাকা ও ৫টি ক্রেডিট লেনদেনে মোট ২৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ট্রান্সফার করেন। নিতাই চন্দ্র সাহার ব্যাংক হিসাবে ১৫ লাখ টাকা ঘাটতি ফেলে তারা পরস্পর যোগসাজশে আত্মসাত করেন।
একইভাবে মো. খোরশেদ আলমের একাউন্টে ৪টি ডেবিট লেনদেনে মোট ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ২টি ক্রেডিট লেনদেনে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ট্রান্সফার করে গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে ৪ লাখ টাকা ঘাটতি ফেলে আত্মসাত করেন। এমনিভাবে ব্যাংকের গ্রাহক মো. লোকমান মিয়ার একাউন্টে ৩৩টি ডেবিট লেনদেনে মোট ১ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ৩টি ক্রেডিট লেনদেনে ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ট্রান্সফার করে তার ব্যাংক হিসাবে ৮২ লাখ ২৫ হাজার টাকা ঘাটতি ফেলে আত্মসাত করেন।
এছাড়া ব্যাংকের গ্রাহক মো. হারিজ মিয়ার একাউন্টে ১টি ডেবিট লেনদেনে ৫ লাখ টাকা ট্রান্সফার করে তার ৫ লাখ টাকা ঘাটতি ফেলে তারা পরস্পর যোগসাজশে আত্মসাত করেন।
তারা চারজন গ্রাহকের একাউন্ট ব্যবহার করে সর্বমোট ১ কোটি ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা আত্মসাত করে। ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারা শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।