সোমবার, ১৫ Jun ২০২৬, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

নাজিরপুরে ভাসমান সবজি চাষে সাফল্য, পেয়েছে বিশ্ব স্বীকৃতি

ভাসমান সবজি চাষ কীভাবে শুরু হয়েছিল, নির্দিষ্ট করে তা কেউ কিছু বলতে পারেননি। মুগারঝোড় গ্রামের কৃষক মো: ফেরদাউস (৫০) বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই ভাসমান সবজি চাষ করে আসছি। আমাদের বাবা-দাদাড়া এইভাবে চাষ করতেন।

পিরোজপুরের নাজিরপুরের প্রত্যন্ত এলাকা দেউলবাড়ী-দোবরা, কলারদোয়ানিয়া ও মালিখালী ইউনিয়নের বিল। এখানকার বাসিন্দারা বছরের প্রায় ছয় মাস পানিবন্দী থাকে। এক মৌসুমের ফসলে তাদের অভাব-অনটনের মধ্যে থাকতে হয়। তবে তাদের বিকল্প আয়ের পথ খুলে দিয়েছে ভাসমান সবজি চাষ। লাভজনক হওয়ায় সহস্রাধিক কৃষক এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছেন। বর্তমানে এ উপজেলায় ১৮০ হেক্টর জলাশয়ে ভাসমান সবজি চাষ হচ্ছে। দু’শত বছরেরও আগে থেকে চলে আসা এ বিরল কৃষি পদ্ধতি আজ দেশ ছাড়িয়ে বিশ্ব স্বীকৃতি অর্জন করেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই স্বীকৃতিপত্র বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করেছে। কৃষি বিশেষজ্ঞরাও বর্তমানে জলমগ্ন জলাভূমিতে এ ধরনের বিশেষ পদ্ধতির চাষাবাদের প্রশিক্ষনসহ কৃষকদের ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করছেন। নাজিরপুর উপজেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার উত্তরে বৈঠাকাটা বাজার সন্নিহিত মুগারঝোর গ্রামের জলাভূমিসহ ৭ টি বিলাঞ্চলের ১৮০ হেক্টর জমিতে নয়নাভিরাম ব্যতিক্রমী এ চাষাবাদের ব্যাপকতা দেখা মেলে।

ভাসমান বেড তৈরী

বর্ষার শুরু অর্থাৎ আষাঢ় থেকে কার্তিক পর্যন্ত এ পাঁচ মাস কৃষকদের ভাসমান ধাপের উপর ৪১ প্রজাতির শাকসব্জির চারা উৎপাদন ও তা বিক্রির সময়। আষাঢ়ে এসব গ্রামের নীচু জমি পানিতে প্লাবিত হওয়ার সাথে সাথে কৃষকরা নেমে পড়ে ধাপ চাষে। কচুরিপানা, দুলালীলতা, শ্যাওলা, টেপাপানা, গুড়িপানা ইত্যাদি জলজ উদ্ভিদের সঙ্গে খড়কুটা এবং নারিকেলের ছোবড়াগুড়া মিলিয়ে স্তরে স্তরে সাজিয়ে তৈরী করা হয় ভাসমান বীজতলা বা ধাপ। যা পচে তৈরী হয় জৈবসার। ১০০-১৮০ ফুট লম্বা ৫-৬ ফুট চওড়া এবং এক-দেড় ফুট পুরু বীজতলা পানিতে তৈরী হয়, যা থাকে ৮-১০ ফুট পানিতে ভাসমান। পুরুষরা ধাপ তৈরী, চারা স্থাপন, পরিচর্যা ও চারা বিক্রির কাজ করে। নারীরা ও ছোট ছেলে মেয়েরা বাড়ীতে বসে চারা তৈরীর প্রাথমিক স্তর অর্থাৎ বীজের অঙ্কুরোদগম ঘটানোর কাজ করে। শ্যাওলা, নারিকেলে ছোবরা ও কেঁচো সার ইত্যাদি দিয়ে ছোট ছোট বল আকারের বস্তু তৈরী করে থাকে। স্থানীয় ভাষায় একে টেমা বা দৌল্লা বলে। এর মধ্যে বীজ রেখে অঙ্কুরোদগম ঘটানো হয়। যা পরে ভাসমান বীজতলা বা ধাপের উপর স্থাপন করে নির্দিষ্ট সময় পরিচর্যার পর চারায় পরিনত করা হয়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা

গত রবিবার সরেজমিন দেখা যায়, বিলাঞ্চলের বিলের পানির ওপর ভাসমান বেডে শসা, কাঁকরোল, মিষ্টিকুমড়া, লাউ, বেগুন, টমেটো, পেপে, মরিচের চারা এছাড়া লালশাক, পালংশাক, মুলা সহ নানা প্রকার সবজির সমারোহ। বিলের পানি ছাড়াও এই পদ্ধতিতে বাড়ির পাশে জলাশয়ে সবজি চাষ করা হচ্ছে। সরেজমিনে আরো দেখে যায়, শীতের সিজনে বিলের পানি অনেকটা কমে গেছে এবং এ সবজি চারা বিক্রি করার পরে এখানেই রোপন করা হবে বোরো ধান।

মুগারঝোর গ্রামের ইব্রাহীম (৬০) বলেন, এলাকার অধিকাংশ জমিতে এক ফসল হয়। বছরে প্রায় ৬ মাস পানিতে তলিয়ে থাকে। আগে অভাব অনাটন লেগেই থাকত। পরে ভাসমান সবজি চাষ শুরু করার পরে এখন আর আমাদের পিছনে ফিরে তাকান লাগে না। এই সবজি চারা এবং সবজি তোলা হলেই বিরি ধান রোপন করা হবে। ‘এবার ২০টি বেডে সবজি চারা চাষ করেছি। বেড প্রতি তৈরি করতে খরচ হয়েছে ১১ হাজার টাকা, চারা বিক্রী গেল বছরের তুলনায় এবছর দাম কিছু বৃদ্ধি থাকায় আশাকরি বেড প্রতি ২০ হাজার টাকার চারা বিক্রী করতে পারব।

দেউলবাড়ী গ্রামের রাজে আলী বলেন‘সপ্তাহে দুদিন গাওখালী ভাসমান নৌকায় হাট এবং গাওখালী বাজারে সবজি নিয়ে বিক্রি করি। কখনো কখনো ব্যবসায়ীরা এসে বাড়ি থেকেই সবজি কিনে নিয়ে যান। বিষমুক্ত হওয়ায় প্রচুর চাহিদা রয়েছে এসব সবজির। এখান থেকে সবজি এবং চারা ট্রাকে এবং নদী পথে বিভিন্ন জায়গায় চলে যায়, ঢাকায় ও রয়েছে এর ব্যপক চাহিদা।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কমকতা ইশরাতুন্নেছা এশা বলেন, উপজেলায় এবছর প্রায় ১৮০ হেক্টর জমিতে ২১৭৫ টি ভাসমান বেড রয়েছে। পরিবেশ বান্ধব ও জৈব পদ্ধতিতে এ ফসল আবাদ করা হয় । চাষের খরচ তুলনামূলকভাবে খুবই কম। সেচের প্রয়োজন পড়ে না। খুব কম সার ও বালাইনাশক ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন করা যায়।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com