বুধবার, ১৫ Jul ২০২৬, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর বছরেই দেশের সব ব্যাংকে ‘কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার’ (সিবিএস) ব্যবহার নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলেছেন, সরকার আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে সফটওয়্যার রপ্তানি করে ৫০০ কোটি ডলার আয় করার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করলেও বেশির ভাগ ব্যাংক এখনো বিদেশি সফটওয়্যার ব্যবহার করছে।
দেশে এখন ৬৩টি ব্যাংক রয়েছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশেই বিদেশি কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ব্যবহার হয়।দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহার হয় বাকি ৪০ শতাংশে। বিদেশি সফটওয়্যারের ওপর কেন ব্যাংক কর্মকর্তাদের এত ঝোঁক তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
শনিবার কালের কণ্ঠ ও সিটিও ফোরাম বাংলাদেশ আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে একাধিক তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জানতে চেয়েছেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সার্কুলার থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রায়ত্ত একাধিক ব্যাংক কেন বিদেশি সফটওয়্যার ব্যবহার করে।অথচ অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে স্পষ্ট করে বলা আছে, দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহার করতে।
রাজধানীর বসুন্ধরায় ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘দেশীয় কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার শিল্পের উন্নয়নে করণীয়’ শিরোনামের গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ঘোষণা দেন, যারা দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহার করছে তাদের কর হার কমাতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করবেন।
আর যারা বিদেশি সফটওয়্যার ব্যবহার করছে, তাদের কর হার বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করবেন তিনি। উল্লেখ্য, কোর ব্যাংকিং সেবা বলতে বোঝানো হয়—এক অ্যাকাউন্টের সেবা সবখানে। কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে দেশের যেকোনো স্থান থেকেই অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সব ধরনের লেনদেন করা যায়।
কালের কণ্ঠ’র সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলনের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন কালের কণ্ঠ’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তফা কামাল, বেসিসের পরিচালক ও ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেমস ম্যানেজার মুহাম্মদ ইসহাক মিয়া, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিস্টেমস ম্যানেজার মো. শফিকুর রহমান, অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালক মনজুরুল হক লাবলু, সীমান্ত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুখলেসুর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ, সিটিও ফোরামের সভাপতি তপন কান্তি সরকার, ইনফিনিটি টেকনোলজি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের এমডি কে এম রহমতুল্লাহ্, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের এএমডি শ ম মাইনুদ্দীন চৌধুরী, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট মিজানুর রহমান, ফ্লোরা সিস্টেমস লিমিটেডের পরিচালক সেরোশা ইসলাম, অগ্রণী ব্যাংকের সিআইটিও মুহাম্মদ মাহমুদ হাসান, ট্রাস্ট ব্যাংকের হেড অব আইটি খন্দকার বেদৌরা মাহবুব, সীমান্ত ব্যাংকের হেড অব আইটি মো. আশরাফুল আলম ভূঁইয়াসহ অন্যরা।
বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, আমরা বিদেশি কোনো জিনিস পেলেই গর্বিত হয়ে যাই। দেশে এখন ব্যাংকের সাড়ে দশ হাজার শাখা আছে। আমরা এখনো ব্যাংকে বিদেশি সফটওয়্যার ব্যবহার করছি। দেশীয় কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ব্যবহার করছি না।
বিদেশি সফটওয়্যার ব্যবহারের ফলে বছরে আমাদের ৫০০ কোটি টাকা রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ দেশের বাইরে পাঠাতে হচ্ছে। অথচ এই টাকা দিয়ে আমাদের দেশে অসংখ্য যুবকের চাকরির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তিনি বলেন, সারা বিশ্বের মধ্যে জার্মান সৈন্য অত্যন্ত চৌকস; তাই বলে কি আমরা আমাদের সীমান্তে জার্মান সৈন্য নিয়োগ দেব?’ ওয়ালটনসহ বাংলাদেশের তৈরি সব পণ্য ব্যবহার করতে ব্যাংকারদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
নগরকন্ঠ.কম/এআর