বুধবার, ১৫ Jul ২০২৬, ০১:৪১ অপরাহ্ন

করোনা: অভিযানেও কমছে না পণ্যের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : রায়পুরে করোনা আতঙ্কের মধ্যে কয়েকদিন ধরে পৌর শহরসহ সকল হাট-বাজারে বাড়তে শুরু করেছে নিত্য-পণ্যের দাম। বাজার স্থিতিশীল রাখতে দফায় দফায় উপজেলা প্রশাসনের বৈঠক ও ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালালেও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না নিত্য-পণ্যের দাম। অভিযোগ রয়েছে, অসাধু ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের আতঙ্ককে পুঁজি করে কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে পণ্যের দাম বাড়িয়ে যাচ্ছেন।

ভোক্তাদের অভিযোগ- দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজারে জিনিসপত্র কিনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে গরিব ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষদের। চাল, ডাল, রসুন, পেঁয়াজ, আলু থেকে শুরু করে সব ধরনের পণ্যই বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৫ থেকে ৩০ টাকা বেশি দরে। কোনও কোনও পণ্যের ক্ষেত্রে দাম বেড়েছে তার চেয়েও বেশি। দু-তিনদিনের মাথায় বাজারের এই লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে ক্রেতাদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

তারা বলছেন, বাজার মনিটরিংয়ের জন্য নেই কোনও বাজার কমিটি। তবে নিত্য-পণ্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করার পাশাপাশি সরকারি নজরদারি বাড়ানোর দাবি তুলেছেন ক্রেতারা।

রবিবার পৌর শহরের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, চাল প্রতি কেজি ৫৪ টাকা পেঁয়াজ ৬০ টাকা, রসুন ১৭০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, আলু ২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। অথচ করোনা আতঙ্কের দুইদিন আগে গত বৃহস্পতিবার এসব বাজারে প্রতি কেজি চাল ৪৪ টাকা, পেঁয়াজ ৩৫ টাকা, রসুন ১২০ টাকা, আলু ১৫ টাকা, করলা ৫০ টাকা বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়াও চালের দাম গত তিন-চারদিনের ব্যবধানে কেজিতে অন্তত ৬ থেকে ৮ টাকা হারে বেড়েছে। আর পেঁয়াজ বেড়েছে প্রতি কেজিতে ৩০ টাকা হারে।

পাইকারি ব্যবসায়ী আমিন, হেলাল ও রাজুসহ কয়েকজন জানান, করোনাভাইরাসের আতঙ্কে একসঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে রাখছে মানুষ। যার বাসায় মাসে ২০ কেজি চাল লাগে, দেখা যাচ্ছে তিনি এখন কিনছেন ৫০ কেজির এক বস্তা। এতেই ঢাকাসহ সারাদেশে নিত্য-পণ্যের দাম বেড়ে যায়।

রায়পুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু বলেন, বাজারে পণ্যের ঘাটতি না থাকা সত্ত্বেও করোনার অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। হঠাৎ করে প্রায় সকল পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে ক্রেতাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের চলমান ঊর্ধ্বগতির প্রবণতা রোধ করা না গেলে আগামী রমজান মাসে নিত্য-পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ কষ্টসাধ্য হবে। এর ফলে ভোক্তা সাধারণ দুর্ভোগের শিকার হলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরী বলেন, করোনাভাইরাসকে পুঁজি করে কিছু ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়াচ্ছেন এমন অভিযোগে আমরা বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা করেছি। অভিযানে কয়েক ব্যবসায়ীকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এটি আমাদের নিয়মিত অভিযানের অংশ। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে বাজারে কোনও বণিক সমিতির কমিটি না থাকায়ও কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com