বুধবার, ১৫ Jul ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ন

ডিএসসিসির নতুন ১৮ ওয়ার্ড: বর্ষায় জলাবদ্ধতার আতঙ্কে বাসিন্দারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : আসন্ন বর্ষায় জলাবদ্ধতায় আতঙ্কে রয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) সঙ্গে নবসম্পৃক্ত ১৮টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। এসব ওয়ার্ডের ড্রেনেজে ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। সেগুলো দীর্ঘদিন পরিষ্কার করা হয় না। উন্নয়ন কাজের নামে ড্রেনে বস্তা ফেলে রাখা হয়েছে। কিছু এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থাই নেই।

জানা যায়, ডিএসসিসির নতুন ১৮টি ওয়ার্ড আগে তেজগাঁও উন্নয়ন সার্কেলের অধীনে ছিল। শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া, ডেমরা, মাণ্ডা, দক্ষিণগাঁও ও নাসিরাবাদ- এ ৮টি ইউনিয়ন ভেঙে এসব ওয়ার্ড করা হয়। ২০১৭ সালের ২৬ জুলাই এ ৮টি ইউনিয়ন পরিষদ বিলুপ্ত করা হয়। এ ওয়ার্ডগুলোতে প্রায় ২০ লাখ মানুষের বসবাস।

ডিএসসিসির সঙ্গে যুক্ত করার পর এসব ওয়ার্ড এলাকার কিছু প্রধান সড়ক ও সড়কের সঙ্গে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে। এতে এসব উঁচু সড়কের পাশের শাখা সড়কগুলো নিচু হয়ে গেছে। এছাড়া ড্রেনেজ নির্মাণের সময় বস্তা দিয়ে বাঁধ তৈরি করে কাজ করা হয়েছিল। ঠিকাদাররা কাজের শেষে সে বস্তা সরায়নি।

সে কারণে অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এছাড়া ওয়ার্ড এলাকার অধিকাংশ প্রধান সড়ক ও অলি-গলি পথ পাকা ও উঁচু এবং ড্রেনেজ নির্মাণ করা হয়নি। ফলে বাসিন্দাদের পয়ঃনিষ্কাশনের ও শিল্প করখানার ডাইং মেশিনের বিশাক্ত পানিতে নিচু সড়কগুলো তলিয়ে যায়। আসন্ন বর্ষায় এসব এলাকায় বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

৫৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কদমতলী থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আজিজ যুগান্তরকে বলেন, আমাদের এ নতুন ওয়ার্ডগুলো রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন ছিল।

ইউনিয়ন পরিষদে তেমন বরাদ্দ না থাকায় রাস্তাঘাটের উন্নয়ন কাজ হয়নি। ডিএসসিসির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। কিছু সড়কে উন্নয়ন কাজ হয়নি।

উন্নয়নবঞ্চিত সড়কে বৃষ্টি হলে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন মানুষ। বিগত বছরে এসব এলাকার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শবাগ এলাকার বাসিন্দা আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল ইসলাম এনাম যুগান্তকে বলেন, এলাকার বাসিন্দারা তাদের ময়লা নেয়ার জন্য টাকা দেয়।

অথচ সপ্তাহে একদিন এসে ময়লা নেয়া হয়। ফলে বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে তাদের ময়লা খালসহ ড্রেনের বিভিন্ন স্থানে ফেলে। এতে খাল ভরাট ও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

একই এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, এলাকার ড্রেনেজগুলো কাউন্সিলর প্রায় সময় পরিষ্কার করেন। কিছুদিন পর আবার যেই-সেই হয়ে যায়।

ডিএসসিসি ৫৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সফিকুল ইসলাম সাইজুল বলেন, আমার ওয়ার্ড এলাকা আগে ছিল শ্যামপুর ইউনিয়ন। সিটি কর্পোরেশনের আওতায় আসার পর কিছু প্রধান সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজ করেছে ডিএসসিসি। অনেক প্রধান সড়ক ও অলি-গলি সড়ক কাঁচা রয়েছে।

ডিএসসিসি ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আকাশ কুমার ভৌমিক বলেন, এ ওয়ার্ডটি নিচু, অনুন্নত ও অবহেলিত। এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ির নিচতলা নিয়ে আসন্ন বর্ষায় শঙ্কায় আছি।

ওয়ার্ড এলাকার ড্রেনেজগুলো ময়লায় ভরে আছে। বর্ষার আগে খাল ও ড্রেনেজ পরিষ্কার করা না হলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। এছাড়া নিচু ও কাঁচা সড়কগুলো দ্রুত পাকা ও উঁচু করা প্রয়োজন।

ডিএসসিসি ৬১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জুম্মন মিয়া বলেন, ওয়ার্ডের কিছু সড়ক উঁচু করার কারণে আশপাশের সড়ক ও এলাকা নিচু হয়ে পড়েছে। এসব সড়ক উঁচু করা জরুরি।

ডিএসসিসি ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভূঁইয়া সেন্টু বলেন, ড্রেনেজের ময়লা পরিষ্কার করে কূল পাই না। একদিকে পরিষ্কার করে অন্য দিকে যেতে যেতে আবার খাল ময়লায় ভরে যায়।

বাসিন্দারা একটু সচেতন হলে ময়লা নির্ধারিত স্থানে ফেললে ড্রেনেজগুলোতে এত ময়লা হতো না। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা নিজেরা সচেতন না হব, ততক্ষণ নিজেদের দুর্ভোগ দূর করা সম্ভব হবে না।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com