বুধবার, ১৫ Jul ২০২৬, ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন

রাজশাহী বিভাগে হোম কোয়ারেন্টাইনে ৫১৯ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : রাজশাহী মেডিকেল কলেজে (রামেক) এসেছে করোনা ভাইরাস শনাক্তের পিসিআর মেশিন। মেশিন বসানো কার্যক্রম শেষ হলে রাজশাহী বিভাগের রোগীদের এখান থেকে করোনা ভাইরাস শনাক্ত সম্ভব হবে।

অল্প সময়ের মধ্যেই মেশিন বসানোর কার্যক্রম শেষ হবে বলে জানিয়ে রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, রামেক বায়োলজি বিভাগে পিসিআর মেশিন এসেছে। এছাড়া রামেক হাসপাতালের চিকিৎসকদের জন্য পিপিইও এসেছে।

এদিকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক জানিয়েছেন, শুক্রবার পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫১৯ প্রবাসী। তাদের কেউই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়নি। বৃহস্পতিবার সকাল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ১০৬ প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে ভারত থেকে এসেছেন ৮৮ জন, মালেশিয়া থেকে দুইজন, সৌদি আরব থেকে তিনজন, ইংল্যান্ড থেকে একজন, দুবাই থেকে তিনজন, উগান্ডা থেকে একজন, সুদান থেকে দুইজন, ওমান থেকে তিনজন, চীন থেকে একজন ও ফিলিপাইন থেকে দুইজন।

অন্যদিকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে রাজশাহীর জনশূন্য রাস্তায় চলছে সশস্ত্র বাহিনীর টহল। একজন মেজরের নেতৃত্বে টহলের পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত ও মাস্ক পরাসহ সচেতনতা সৃষ্টির জন্য মাইকিংও করছেন সেনা সদস্যরা। এছাড়া রাস্তায় টহল দিচ্ছে পুলিশ সদস্যরাও। শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নগরীর সাহেববাজার, নিউমার্কেট, শিরোইল বাসস্ট্যান্ড, শহীদ কামারুজ্জামান চত্বর, বর্ণালী মোড়, লক্ষ্মীপুর মোড়সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি একেবারেই কম দেখা যায়। অধিকাংশ গণপরিবহণ বন্ধ থাকলেও দু’একটি অটোরিকশা চলছে। শহরের সকল মার্কেট ও দোপানপাট বন্ধ। তবে ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান খোলা রয়েছে।

সিটি রপোরেশনের কর্মীরা রাস্তায় গাড়ির মাধ্যমে জীবাণুনাশক ছিটাচ্ছে ও মাইকিং করছে। তারা মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহারের পরামর্শসহ একাধিক ব্যক্তিকে একসঙ্গে না চলতে এবং কাশি শিষ্টাচারসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলছে।

রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকার ১৯ প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টিনে আনা হয়েছে। এছাড়া চারঘাটে ৪৬, পুঠিয়ায় ৪, দুর্গাপুরে ১, মোহনপুরে ২০, তানোরে ৪, পবায় ৮ এবং গোদাগাড়ীতে ৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। গত ১ মার্চ থেকে জেলায় ৭১১ প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টিনের আওতায় আনা হয়। ১৪ দিন পূর্ণ হওয়ায় ১৯২ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫১৯ জন। পুলিশের সহায়তায় তাদের বাড়িগুলো চিহ্নিত ও লকডাউন করা হয়েছে। সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের মনিটর করা হচ্ছে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্র নাথ আচার্য্য বলেন, ৫১৯ প্রবাসী হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকলেও এখনো রাজশাহী বিভাগে করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি। কেউ স্বাস্থ্যবিধি না মানলে তাদের বাধ্যতামূলক অফিসিয়াল কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে।

জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, বুধবার থেকেই রাজশাহীর রাস্তাঘাট ফাঁকা রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকতে যে অনুরোধ করা হচ্ছে। আশা করছি- মানুষ আরও সচেতন হবেন এবং সকলে মিলে করোনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com