বুধবার, ১৫ Jul ২০২৬, ০১:০৯ পূর্বাহ্ন

বিদ্যুৎ বিল নিচ্ছে না ব্যাংক, জরিমানার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত বিদ্যুতের বিল দেরিতে পরিশোধ করা হলেও বিলম্ব জরিমানা দিতে হবে না আবাসিকের গ্রাহকদের।

বিদ্যুৎ বিভাগ এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে কয়েকদিন আগেই। কিন্তু বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি।

তাই, বাণিজ্যিক গ্রাহকরা ব্যাংকে গিয়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের চেষ্টা করছেন। কিন্তু ব্যাংকে বিল নেয়া হচ্ছে না। ব্যাংকগুলো থেকে বলা হচ্ছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শুধু টাকা জমা এবং তোলা যাবে। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ বিল না দিতে পারার কারণে ব্যবসায়ীরা জরিমানার মুখে পড়তে যাচ্ছেন বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

রাজশাহীর বিসিক শিল্প এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো)। রাজশাহী বিসিকে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির মিলিয়ে উৎপাদনমুখী প্রায় ৩০০ শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিছু কিছু কারখানা বন্ধ হলেও জরুরি পণ্যের উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও চলছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, রাজশাহী বিসিকে প্রতিদিন ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। মাসে সর্বনিম্ন ১৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতে হয় কোনো কোনো ব্যবসায়ীকে। তারা বিদ্যুৎ বিল ব্যাংকে দিতে যাচ্ছেন। কিন্তু নেয়া হচ্ছে না। পরবর্তীতে যখন বিদ্যুৎ বিল নেয়া হবে তখন তাদের বিলম্ব জরিমানা দিতে হবে। তাদের দাবি, আবাসিকের মতো তাদেরও বিলম্ব মাশুল মওকুফ করা হোক।

রাজশাহী বিসিক শিল্পমালিক সমিতির আহ্বায়ক মো. লিয়াকত আলী জানান, রাজশাহীতে ভারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নেই। কোনো কারখানা অতিরিক্ত পণ্য তৈরি করে মজুদও করে রাখেন না। সে কারণে বাজারে যেন পণ্যের ঘাটতি দেখা না দেয় তার জন্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হচ্ছে। বিশেষ করে ওষুধ এবং খাদ্যদ্রব্যের জরুরি পণ্যের উৎপাদন চলছে। কিন্তু, বিদ্যুৎ বিল নেয়া না হলে অথবা জরিমানা গুণতে হলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এই সমস্যার সমাধান করা উচিত।

জানতে চাইলে নেসকোর রাজশাহী বিতরণ অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুর রশিদ জানান, জরিমানা যেন গুণতে না হয় তার জন্য আমরা বড় কয়েকজন ব্যবসায়ীর বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ করার ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু সবার ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। তাই সবারই বিলম্ব মাশুল মওকুফের বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি। বিষয়টি নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালককেও অবহিত করা হয়েছে। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

তবে, বাণিজ্যিক সংযোগেরও বিলম্ব মাশুল মওকুফ হবে বলেই তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com