বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:০২ পূর্বাহ্ন

সিনেমা নিয়েই ভাবনা আলমগীরের

শোবিজের প্রবীণ তারকাদের মৃত্যুর গুজব নতুন কিছু নয়। হলিউড, বলিউডের পাশাপাশি আমাদের দেশেও বর্ষীয়ান অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান, নায়ক রাজ রাজ্জাক, অভিনেতা প্রবীর মিত্র, চিত্রনায়িকা শাবনূরসহ অনেক তারকার মৃত্যুর গুজব উঠেছে একাধিকবার। কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেতা আলমগীরও আছেন এই তালিকায়। কদিন আগে আবারও বাবার মৃত্যুর গুজবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীর। তিনি বলেছিলেন, ‘আব্বু সুস্থ আছেন, ভালো আছেন। দয়া করে অমানুষের মতো গুজব ছড়াবেন না। আপনারাও কোনো বাবা-মায়ের সন্তান। এত ঘৃণ্য কাজ কীভাবে করতে পারেন?’ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যেদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় তার মৃত্যুর গুজব ওঠে সেদিন সন্ধ্যায়ও এফডিসিতে গিয়েছিলেন আলমগীর। সেখানে পরিচালক ও প্রযোজকদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। আড্ডা দিয়েছেন চিত্রনায়ক সাইমনের সঙ্গেও।

শুধু তাই নয়, গত ৩ নভেম্বর তিনি একটি পাঁচ তারকা হোটেলে হাজির হন সুস্থ শরীরে। তার স্ত্রী উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার সাক্ষাৎকারভিত্তিক বই ‘সীমানা পেরিয়ে রুনা লায়লা’ ও সদ্য প্রয়াত কিংবদন্তি চিত্রতারকা কবরীকে ‘একলা কবরী’র প্রকাশনা অনুষ্ঠানে হাজির হন তিনি। এ প্রসঙ্গে এই নায়ক বলেন, ‘অনুষ্ঠানটি আমার জন্য স্পেশাল ছিল। একদিকে সহযাত্রীকে নিয়ে বই, অন্যদিকে জীবনের প্রথম সিনেমার নায়িকাকে নিয়ে বই প্রকাশ হয়েছে। যদিও কবরী না থাকায় এই অনুষ্ঠান অপূর্ণ থেকে গেল। শুধু সহ-অভিনেতা বা বন্ধু নয়, সহজ করে বললে ‘কবরীর চ্যালা ছিলাম’। কাজের প্রতি কবরীর গভীর নিষ্ঠা ছিল। তার সঙ্গে কত ঘটনা মনে পড়ছে। আর রুনা লায়লা ব্যক্তিমানুষ হিসেবে অতি সাধারণ। বাড়িতে এমনভাবে তিনি থাকেন যেকেউ প্রথমবার এলে তাকে চিনতেই পারবেন না। আর মানুষের জন্য রুনার সহায়তা করার যে গুণ, সেটি আমাকেও অনুপ্রাণিত করেছে মানুষের জন্য কাজ করতে। তবে আমার একটা আক্ষেপ আছে। ঘরোয়া আয়োজনে রুনা লায়লা যেসব ধ্রুপদী গান করেন, এ ধরনের গান রুনাকে দিয়ে বিশেষ গাওয়ানো হয়নি। এতে শ্রোতারা এবং সংগীত ভুবনও অনেক বঞ্চিত হয়েছে।’

আলমগীর এখনো সিনেমা নিয়েই ভাবেন সারাক্ষণ। নিজের অফিসে বসেন নিয়মিত। চলচ্চিত্রবিষয়ক কোনো কাজে তাকে দরকার পড়লে আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে যান। তবে এত অ্যাকটিভ থাকার পরও তাকে দীর্ঘদিন সিনেমার পর্দায় বা ক্যামেরার সামনে অভিনয় করতে দেখা যায় না। সর্বশেষ নিজের পরিচালিত ‘একটি সিনেমার গল্প’তে অভিনয় করেছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, ‘সিনেমা নিয়ে আমি কখনই হতাশ নই। করোনার জন্য তো আমাদের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি আরও একটা ধাক্কা খেল। এখন আবার কাজ শুরু হয়েছে। তবে মাঝে মাঝে ভাবি আরও ভালো হতে পারত। বিশেষ করে গল্প, চরিত্র নির্মাণে আরও বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন। এমন নয় যে আমি অভিনয় করতেই চাই না। আবার এমন নয় যে পরিচালকরা আমার সঙ্গে অভিনয়ের ব্যাপারে যোগাযোগ করেন না। কিন্তু যে ধরনের স্ক্রিপ্ট পাই তাতে সায় দিতে মন চায় না। এই সময়ে এসে এমন একটি চরিত্রে সময় দিতে চাই যেটা দেখে দর্শক নতুন এক আলমগীরকে দেখতে পাবে। আমিও যাতে চ্যালেঞ্জ অনুভব করি কাজটা করার ব্যাপারে। আমি এখনো একটি চরিত্র হয়ে উঠতে সব ধরনের প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যেতে ভালোবাসি।’

এখনকার সিনেমা কিংবা ওটিটির কাজকে কীভাবে দেখেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় পজিটিভ মানুষ। আমি বিশ^াস করি, নতুনদের হাত ধরেই আবারও চলচ্চিত্র শিল্প ঘুরে দাঁড়াবে। অনেক ভালো ছবি হবে। দেশ-বিদেশে ছবিগুলো গৌরবের সঙ্গে চলবে। তবে তার গতি অনেক কম। অনেক সময় লাগবে। মাঝে মাঝে দুই-একটা কাজের কথা শুনি, তা দেখে মনে হয় ভিন্ন কিছু হয়েছে। তবে তা সংখ্যায় একেবারেই কম। এ ধরনের কাজ আরও হওয়া উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন সিনেমাকে বড় পর্দা কিংবা ওয়েবের মধ্যে আলাদা করলে চলবে না। ভালো গল্প হলে যেকোনো মাধ্যমেই সেটিকে তুলে ধরা যায়। এবং তা মানুষের মনে দাগ কাটে। এমন কাজ আমিও করতে চাই।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com